২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বেকারত্বে অসুখে জর্জরিত বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৯:০৭ পূর্বাহ্ণ
বেকারত্বে অসুখে জর্জরিত বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ

Manual7 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

নতুন বছরে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি ফিনল্যান্ড। যে দেশটি টানা ৮ বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে, সেই ফিনল্যান্ডই এখন বেকারত্বে অসুখে জর্জরিত।
সবশেষ জরিপেও বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ ফিনল্যান্ড।

Manual3 Ad Code

ইউরোপে সর্বোচ্চ বেকারত্বের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ফিনল্যান্ডের নাম। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৬ শতাংশে। অর্থাৎ, দেশটিতে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে তিন লাখ।

ইউরোস্ট্যাটের সবশেষ তথ্য বলছে, ফিনল্যান্ডে বেকারত্বের হার এখন ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ, দেশটির মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭০০ মানুষ বর্তমানে কাজহীন। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ বেকারত্বের শীর্ষে থাকা স্পেনকেও পেছনে ফেলেছে ফিনল্যান্ড।

Manual2 Ad Code

ফিনল্যান্ডের ইতিহাসে বেকারত্ব নতুন নয়। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দেশটি ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়ে। সে সময় বেকারত্বের হার ১৬ শতাংশ ছাড়িয়েছিল। পরবর্তীতে প্রযুক্তি খাত, বিশেষ করে নকিয়ার নেতৃত্বাধীন টেলিকম শিল্পের উত্থানে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়। বেকারত্ব নেমে আসে ৬ শতাংশে।

Manual4 Ad Code

তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই চিত্র আবার বদলাতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক ধাক্কা, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, উচ্চ সুদের হার এবং ভোক্তা ব্যয়ের সংকোচন ফিনল্যান্ডের অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। এর পাশাপাশি দেশটিতে শ্রমবাজারে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের তকমার আড়ালে বর্তমানে ফিনল্যান্ডের বড় চ্যালেঞ্জ কর্মসংস্থান। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে, এই বেকারত্বই হয়ে উঠতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক সংকট।

Manual3 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code