২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

প্রধানমন্ত্রীর সময়কাল দুই মেয়াদ বা সর্বোচ্চ ১০ বছর করার ঘোষণা

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সময়কাল দুই মেয়াদ বা সর্বোচ্চ ১০ বছর করার ঘোষণা

Manual4 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে বেশ কয়েকটি সংস্কার কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

Manual2 Ad Code

আগামী নির্বাচনকে ঘিরে কয়েকটি সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময়কাল সর্বোচ্চ ১০ বছর বা দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করা।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) ফেডারেল প্রশাসনিক রাজধানীতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে শত শত সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে আনোয়ার ইব্রাহিম এই সংস্কারের ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘নেতাদের উচিত তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা এবং দীর্ঘ সময় ক্ষমতা আঁকড়ে না থাকা। প্রত্যেকেরই একটি সীমাবদ্ধতা আছে। সরকারের মুখ্য সচিব যেমন দশকের পর দশক থাকতে পারেন না তেমনি এই নিয়ম প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।’

Manual6 Ad Code

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এখন থেকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ হবে অনধিক ১০ বছর বা পূর্ণ দুটি মেয়াদ।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আনোয়ার ইব্রাহিমের এই পদক্ষেপ মূলত কয়েকটি কারণে নেয়া হয়েছে; ২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনের ইশতেহারে পাকাতান হারাপান জোট প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ সীমাবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

Manual3 Ad Code

তাছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ দীর্ঘ ২২ বছর এবং পরবর্তীতে আরও ২২ মাস ক্ষমতায় ছিলেন যা মালয়েশিয়ার ইতিহাসে দীর্ঘতম। ক্ষমতার এই অতি-কেন্দ্রীভূতকরণের ফলে সৃষ্ট ‘ক্ষতি’ কাটিয়ে উঠতেই এই সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিনের।

সম্প্রতি শহুরে এবং চীনা ভোটারদের মধ্যে বর্তমান প্রশাসনের প্রতি সমর্থন কমেছে। অন্যদিকে বিরোধী দল পেরিকাতান নাসিওনাল তাদের নেতৃত্বে পরিবর্তন এনে নতুন শক্তিতে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Manual5 Ad Code

বর্তমানে মালয়েশিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পান ততক্ষণ তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারেন। এই নতুন সংস্কার কার্যকর করতে হলে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারায় সংশোধনী আনতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তার ভাষণে সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের দুর্নীতিমুক্ত থেকে দ্রুত সংস্কার কাজ এগিয়ে নেয়ারও আহ্বান জানান।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code