২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৯ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

রহস্যময় ভিলা-কালো টাকার অভিযোগে বিশ্বকাপের আগে বিপাকে আর্জেন্টিনার ফুটবল

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ণ
রহস্যময় ভিলা-কালো টাকার অভিযোগে বিশ্বকাপের আগে বিপাকে আর্জেন্টিনার ফুটবল

Manual7 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

বিশ্বকাপের আগে বিপাকে আর্জেন্টিনা। কর ফাঁকি দেয়া, ম্যাচ গড়াপেটা, অর্থ কেলেঙ্কারিসহ বেশ কিছু অভিযোগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া ও কোষাধ্যক্ষ তোভিগিনোর বিরুদ্ধ্বে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধ্বে বুয়েন্স আয়ার্সের শহরতলির একটি বাড়িতে অবৈধ সম্পদ লুকিয়ে রাখার অভিযোগ তোলা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে গোয়েন্দারা।

২০২৪ এর মার্চে সাবেক ফুটবলার কার্লোস তেভেজ এএফএ কর্মকর্তাদের সন্দেহজনক গতিবিধি নিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন।

বিশ্বকাপ মাঠে গড়াতে বাকি আর মাত্র পাঁচ মাস। প্রস্তুতিতে মনোযোগী বিশ্বকাপজয়ী দলটা। বিশ্ব আসরে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনার আছে গুরুত্বপূর্ণ আরেক মিশন। আগামী মার্চে ফিনালিসিমায় স্পেনের বিপক্ষে লড়বে আলবিসেলেস্তেরা। তবে, বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনের আগে বড় বিপাকে আর্জেন্টিনা।

কর ফাঁকি, অর্থ জালিয়াতি সহ আরও বেশ কিছু অভিযোগে পুলিশি তদন্তে আছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বেশ কয়েকজন বড় কর্তা। ২০২৪ এর মার্চে সাবেক ফুটবলার কার্লোস তেভেজ সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন।

Manual8 Ad Code

বুয়েনস আয়ার্সের শহরতলি পিলার অঞ্চলের একটি বাড়িতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্তার সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়।

শুধু যাতায়াতই নয়, সেই বাড়িতে নাকি টাকা ভর্তি একটা ব্যাগও মাটিতে পুতে রাখা হয় এমন অভিযোগ তোলেন তেভেজ। শহরতলির সেই বাড়িতে অবৈধভাবে একটি পুরনো মূল্যবান গাড়িও লুকিয়ে রাখার অভিযোগ করেন সাবেক স্ট্রাইকার। যে অভিযোগের প্রেক্ষিতে আর্জেন্টিনার রাজনৈতিক দল কোয়ালিশন সিভিক পুলিশি তদন্তের দাবি জানায়।

Manual5 Ad Code

এরপরই শুরু হয় তদন্ত। পুলিশের তদন্ত শুরু হওয়ার পর বেরিয়ে আসে অবাক করা সব তথ্য। শহরতলির বাড়িটিই এএফএর আর্থিক দুর্নীতির কেন্দ্র বলে জানায় পুলিশ। এই দুর্নীতিতে শুধু এএফএ-র সঙ্গে জড়িত রয়েছে বেশ কয়েকটি ক্লাবও। অর্থ জালিয়াতি, ম্যাচ গড়াপেটা, জালিয়াতি করা টাকা ভাগ করা কিংবা নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংগঠিত হয় সেখানে।

ডিসেম্বরের শেষদিকে আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী একাধিক সংস্থার দফতরেও তল্লাশি চালায় তদন্তকারীরা। বাজেয়াপ্ত করা হয় বেশ কিছু নথি। এরপর তল্লাসি চালানো হয় শহরতলির সেই বাড়িটিতেও। সেখানে একটি হেলিপোর্ট, ৫৪টি গাড়ির সন্ধান মেলে। দেশটির একটি রাজনৈতিক দলের দাবি, এই বেআইনি সম্পত্তি এএফএ সভাপতি তাপিয়া ও কোষাধ্যক্ষ পাবলো টোভিগিনোর অর্থ-পাচার কারবারের অংশ।

মূলত তাপিয়া ও তার সহযোগিদের ১৩ মিলিয়ন ডলার জালিয়াতির কারণে কর ফাঁকি দেয় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এএফএর বিরুদ্ধ্বে ওঠে এমন অভিযোগের তদন্ত চলছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এএফএর পক্ষ থেকে।

এএফএ এবং সংস্থার কর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় নড়েচড়ে বসেছে আর্জেন্টিনার প্রশাসনও। বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।

Manual2 Ad Code

মেসিরা যখন দেশকে একের পর এক সাফল্য এনে দিচ্ছেন, সে সময় কর্তাদের বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগে ক্ষুব্ধ আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীরাও। আগামী বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্সে এএফএ কর্তাদের দুর্নীতির প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ।

Manual3 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code