২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৯ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ব্রাজিলিয়ানের জোড়া গোলে ১১ বছর পর সুপারকাপ নাপোলির

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫, ০৩:০৭ অপরাহ্ণ
ব্রাজিলিয়ানের জোড়া গোলে ১১ বছর পর সুপারকাপ নাপোলির

Manual7 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার পর উড়ছেন স্কট ম্যাকটমিনে। নাপোলিতে যোগ দেয়ার পর দ্বিতীয় শিরোপা জিতলেন এই স্কটিশ মিডফিল্ডার।

গত রাতে (২২ ডিসেম্বর) সুপারকোপা ইটালিয়ানার (ইতালিয়ান সুপারকাপ) ফাইনালে বোলোনিয়াকে হারিয়েছে নাপোলি। দুই অর্ধে দুই গোল করে নাপোলিতানদের শিরোপা জয়ের নায়ক অবশ্য এক ব্রাজিলিয়ান।

Manual5 Ad Code

নেরেসের জোড়া গোলে ইতালিয়ান সুপারকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে নাপোলি।

Manual6 Ad Code

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সৌদি আরবের রিয়াদের আল-আওয়াল পার্কে ইতালিয়ান সুপারকাপের ফাইনালে বোলোনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে নাপোলি। সিরি আ’র বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের পক্ষে জোড়া গোল করেছেন ডেভিড নেরেস।

Manual3 Ad Code

এদিন বলের দখলে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও আক্রমণে এগিয়ে ছিল নাপোলি। ১৬টি শট নিয়ে ৯টিই লক্ষ্যে রেখেছিল আন্তোনিও কন্তের শিষ্যরা।

Manual2 Ad Code

অন্যদিকে বোলোনিয়া ৫১ শতাংশ বল দখলে রেখে ১১ শটের মাত্র ৩টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে।

প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না নাপোলি।

অবশেষে ৩৯ মিনিটে পায় কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা। মাঝমাঠের একটু ওপরে ডান প্রান্তে বল পান ডেভিড নেরেস। কিছুটা দৌড়ে ডি-বক্সের কাছাকাছি এসে বাঁ পায়ের রেইনবো কিকে দর্শনীয় গোলে দলকে এগিয়ে দেন এই ব্রাজিলিয়ান।

এই গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় তারা।দ্বিতীয়ার্ধেও প্রথমার্ধের ধারাতেই খেলা এগুচ্ছিল। কিন্তু ভুলের মাশুল দিয়ে দ্বিতীয় গোলটি হজম করে বোলোনিয়া।

বোলোনিয়ার সেন্টারব্যাক হেগেম প্রেসিংয়ের মুখে ব্যাকপাস দিয়েছিলেন গোলরক্ষক ফেদেরিকো রাভাগ্লিয়াকে। চাপের মুখে তিনি বল বাড়ান লুচুমির দিকে। কিন্তু সুযোগসন্ধানী নেরেস দ্রুত এগিয়ে বল কেড়ে নেন, এরপর একাকী গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি এই ব্রাজিলিয়ানকে।

ব্যবধান বাড়ানোর আরও সুযোগ পেয়েছিল নাপোলি। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ফরোয়ার্ডরা।

এটি ইতালিয়ান সুপার কাপে নাপোলির তৃতীয় শিরোপা। ২০১৪ সালের পর ফের এই শিরোপা জিতল নাপোলিতানরা।

২০২৪ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে নাপোলিতে যোগ দেয়ার পর প্রথম মৌসুমে সিরি আ’র শিরোপা জিতেছিলেন ম্যাকটমিনে। দ্বিতীয় মৌসুমে জিতলেন সুপারকাপ।

গত মৌসুমের পারফরম্যান্সে সিরি আ’র সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও ঘরে তুলেছিলেন তিনি।

এছাড়া ব্যালন ডি’অরে হয়েছেন ১৮তম। কিছুদিন আগে স্কটল্যান্ডকে ২৮ বছর পর তুলেছেন বিশ্বকাপের মঞ্চে। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটাচ্ছেন এই স্কটিশ মিডফিল্ডার।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code