২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৯ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

টাইব্রেকারে ফ্ল্যামেঙ্গোকে হারিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতল পিএসজি

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৬:৩৬ অপরাহ্ণ
টাইব্রেকারে ফ্ল্যামেঙ্গোকে হারিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতল পিএসজি

Manual5 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

গত মৌসুমে ট্রেবল জয়ের পর চলতি মৌসুমেও দারুণ ছন্দে রয়েছে পিএসজি। সেই ধারা বজায় রেখে এবার ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতল ফরাসি ক্লাবটি। যদিও ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটিকে হারাতে ঘাম ঝরাতে হয়েছে এনরিকের দলের।
প্রথমবারের মতো ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতল পিএসজি।

Manual1 Ad Code

কাতারের আহমেদ বিন আলি স্টেডিয়ামে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে শিরোপা জয়ের ম্যাচটি নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ ড্রয়ের পর, টাইব্রেকারে ২-১ ব্যবধানে জিতেছে পিএসজি।

Manual4 Ad Code

পুরো ম্যাচে ৬০ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রাখা এবং আক্রমণ আধিপত্য করা পিএসজি খাভিচা কাভারাৎসখেলিয়ার গোলে এগিয়ে যায়। বিরতির পর ঘুরে দাঁড়িয়ে জর্জিনিয়োর সফল স্পট কিকে সমতায় ফেরে ব্রাজিলের ক্লাবটি।

Manual8 Ad Code

এরপর অনেক চেষ্টা করেও আরেক গোলের দেখা আর পায়নি পিএসজি। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও সমতা ধরে রেখে ম্যাচ টাইব্রেকারে টেনে নেয় কোপা লিবের্তাদোরেস ও ব্রাজিলিয়ান সেরি ‘আ’ জয়ী দলটি।

পেনাল্টি শুট আউটে নিজেদের প্রথম শটে দুই দলই গোল পায়। এরপরই সাউল নিগেসের শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন পিএসজির গোলরক্ষক সাফানভ, এবং এরপর ফ্ল্যামেঙ্গোর আর কেউ তাকে পরাস্ত করতে পারেনি।

যদিও এগিয়ে যাওয়ার ওই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি দেম্বেলে, উড়িয়ে মারেন তিনি। ফ্ল্যামেঙ্গোর দ্বিতীয় শুটার পেদ্রোর প্রচেষ্টাও সাফানভ ডানদিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন। এরপর নুনো মেন্দেস সফল হলে ২-১ এ এগিয়ে যায়।

পিএসজির তৃতীয় শট নেওয়া ব্র্যাডলি বার্কোলার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে অবশ্য উত্তেজনা জাগান ফ্ল্যামেঙ্গোর গোলরক্ষক। তবে, সাফানভের বিশ্বস্ত গ্লাভসে পিএসজির সব চিন্তা দূর হয়ে যায়।

Manual6 Ad Code

লিও পেরেইরার সোজাসুজি শট রুখে দেওয়ার পর, সাফানভ ডানদিকে ঝাঁপিয়ে লুইস আরাউহোর শট ঠেকিয়ে দেওয়া মাত্র শিরোপা জয়ের উৎসব শুরু হয়ে যায় পিএসজির।

জানুয়ারিতে চলতি বছরে প্রথম শিরোপার স্বাদ পেয়েছিল পিএসজি, উঁচিয়ে ধরেছিল ফরাসি সুপার কাপ। এরপর বছরের মাঝামাঝি এসে ফরাসি কাপ, লিগ আঁ ও প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ট্রেবল জয়ের কীর্তি গড়ে প্যারিসের দলটি।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code