২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ইসরাইলকে সতর্ক করল জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৬, ২০২৫, ০৩:১৬ অপরাহ্ণ
ইসরাইলকে সতর্ক করল জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী

Manual3 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী ইউনিফিলের কাছাকাছি আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এ হামলাকে নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ অভিহিত করে দেশটিকে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইএনআইএফআইএল-এর শান্তিরক্ষীরা তাদের কার্যক্রম আওতাভুক্ত এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলার একটি সিরিজ পর্যবেক্ষণ করেছে।

Manual8 Ad Code

তিনি বলেন, এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটল যখন লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে অননুমোদিত অস্ত্র এবং অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণের জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইসরাইলের এই পদক্ষেপ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে তাদের বিদ্যমান যোগাযোগ এবং সমন্বয় ব্যবস্থা ব্যবহারের আহ্বান জানাই।’

ডুজারিক বলেন, বৃহস্পতিবার লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের বিনত জবেইল এলাকার কাছে তিনটি মপেডে করে ছয়জন ব্যক্তি টহলরত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষদের গাড়ির পেছনে প্রায় তিনটি গুলি ছোড়ে। শান্তিরক্ষীদের ওপর আক্রমণ অগ্রহণযোগ্য এবং ১৭০১ প্রস্তাবের গুরুতর লঙ্ঘন।
উল্লেখ্য, এই প্রস্তাবটি ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহ এবং ইসরাইলের মধ্যে শত্রুতা অবসানের জন্য করা হয়েছিল। পাশাপাশি লিতানি নদী ও জাতিসংঘ কর্তৃক চিহ্নিত ব্লু রেখা সীমানার মধ্যে একটি অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়।

Manual3 Ad Code

জাতিসংঘ মহাসিচিবের মুখপাত্র বলেন, আমরা লেবাননের কর্তৃপক্ষকে শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য আমরা পূর্ণাঙ্গ ও তাৎক্ষণিক তদন্তের দাবি জানাই।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দক্ষিণ লেবাননের অন্তত তিনটি শহরে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

Manual2 Ad Code

বিবিসি জানিয়েছে, কয়েক দশকের মধ্যে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনার একদিনেরও কম সময়ের মধ্যে ইসরাইলি সেনাবাহিনী নতুন করে বিমান হামলা চালায়। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আভিচে আদ্রেয়ি জেবা ও আল-মাজাদেলের বাসিন্দাদের শহর খালি করার নির্দেশনা জারির ঘণ্টাখানেক পরই হামলা শুরু হয়।

যেসব স্থান লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে সেগুলো হলো মাহরুনা নামে একটি ছোট কৃষিভিত্তিক গ্রাম; লিতানি নদীর দক্ষিণে টায়ারের আল-মাজাদেল; লিটানি নদীর উত্তরে এবং বৈরুত থেকে ৬৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নাবাতিয়ের জেবা; এবং বৈরুত থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে নাবাতিয়ে এবং বিনতে জেবিলের মধ্যে অবস্থিত একটি বৃহৎ পাহাড়ি শহর বারাচিত।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইল প্রায় প্রতিদিনই লেবাননে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, এর মধ্যে অন্তত ১২৭ জনই বেসামরিক তথা নিরস্ত্র।

Manual2 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code