৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২২শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মালয়েশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা, আশ্রয়কেন্দ্রে ১৪ হাজার মানুষ

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২৫, ২০২৫, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
মালয়েশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা, আশ্রয়কেন্দ্রে ১৪ হাজার মানুষ

Manual6 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার

মালয়েশিয়ায় গত কয়েকদিনের অবিরাম ভারি বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় দেশটির সাতটি রাজ্যের প্রায় ১৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৪ হাজার ৮৪৪টি পরিবারের মোট ১৩ হাজার ৯১৫ জন মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে (পিপিএস) যেতে বাধ্য হয়েছেন।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ড. আহমদ জাহিদ হামিদি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সব নিরাপত্তা এবং জরুরি সংস্থাগুলোকে পূর্ণ প্রস্তুত মোডে রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, সরকার ইতোমধ্যে ৬৩টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র (পিপিএস) সক্রিয় করেছে এবং ত্রাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ফেডারেল, রাজ্য ও জেলা পর্যায়ে সব সাড়া প্রদানকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছে।

Manual6 Ad Code

ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি’র (নাদমা) ডিজাস্টার কন্ট্রোল সেন্টার থেকে প্রাপ্ত সবশেষ প্রতিবেদন মতে, সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কেলাতান রাজ্যটি বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে আগামী ২-৩ দিনের আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার পরিপ্রেক্ষিতে, দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় বন্যা-প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ আরও জোরদার করেছে।

Manual5 Ad Code

শিক্ষামন্ত্রী ফাদলিনা সিদেক জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের প্রধান অগ্রাধিকার হলো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বোর্ড পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের পরীক্ষা শেষ করতে পারে এবং বন্যাপ্রবণ এলাকার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষা করা।

অস্থায়ী বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনের পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি চারটি স্কুল পরিদর্শন করেছি এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া দেখেছি, যা একটি প্রাথমিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা’।

Manual3 Ad Code

তিনি আরও জানান, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ, ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ডিপার্টমেন্ট এবং সিভিল ডিফেন্স ফোর্সসহ বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় এই প্রস্তুতিমূলক অভিযান চালু করা হয়েছে।

Manual8 Ad Code

এছাড়া, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রস্তুত রয়েছে যাতে আটকেপড়া বা পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে অক্ষম পরীক্ষার্থীদের দ্রুত সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা যায়।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code