৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শেষ হলো মিলানো-কোর্টিনা ২০২৬ শীতকালীন প্যারা অলিম্পিক।

editor
প্রকাশিত মার্চ ২০, ২০২৬, ০৯:৩৬ অপরাহ্ণ
শেষ হলো মিলানো-কোর্টিনা ২০২৬ শীতকালীন প্যারা অলিম্পিক।

Manual6 Ad Code

শেষ হলো মিলানো-কোর্টিনা ২০২৬ শীতকালীন প্যারা অলিম্পিক।

শেখ স্বপ্না শিমুঃ যুদ্ধ আর সংঘাত যখন বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে, ঠিক তখনই ইতালির বরফ শোভিত পাহাড়ে মানবিক জয়গানের এক মহাকাব্য রচিত হলো। শেষ হলো মিলানো-কোর্টিনা ২০২৬ শীতকালীন প্যারা অলিম্পিক। ১০ দিনের লড়াই শেষে বিদায়বেলায় জয়ী হলো শান্তি আর মানবিক সক্ষমতা।
পর্দা নামলো মিলানো-কোর্টিনা ২০২৬ শীতকালীন প্যারা অলিম্পিক।

ইতালির হিমশীতল বাতাসে এখন বিষাদের সুর সঙ্গে প্রাপ্তির আনন্দ। কোর্টিনা কার্লিং স্টেডিয়ামে যখন ‘ইতালিয়ান সোভেনিয়ার’ থিমে সমাপনী অনুষ্ঠান শুরু হলো, তখন তা কেবল একটি গেমসের শেষ ছিল না; ছিল অদম্য প্রাণের উৎসব। ৫৫টি দেশ, ৬১১ জন অ্যাথলেট, সবাই যেন এক সুতোয় গাঁথা।

Manual5 Ad Code

এবারের আসরটি মোটেও সহজ ছিল না। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র/ইজরায়েল যুদ্ধের ছায়া পড়েছিল খেলার মাঠেও। ইউক্রেন-রাশিয়াকে নিয়েও জলঘোলা হয়েছে বিস্তর। ২০২২ সালের পর এই প্রথম রাশিয়া ও বেলারুশকে প্যারা অলিম্পিকে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়। প্রতিবাদে উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান বয়কট করেন ইউক্রেনীয় অ্যাথলেটরা। কামানের গর্জন আর ধ্বংসলীলার খবর শিরোনামের মাঝে মিলানো-কোর্টিনা দেখিয়ে দিল, পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমেও বিশ্বকে চেনা যায়।

Manual5 Ad Code

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল মেরুদণ্ডের সমস্যায় আক্রান্ত কিশোরী সোফিয়া তানসেলা। তার স্বপ্নের হাত ধরে দর্শকরা ভ্রমণ করেছেন এক মায়াবী পৃথিবীতে। যেখানে ক্রাচে ভর দিয়ে ডেরগিন টোকমাক কিংবা এক পা হারানো জিওর্জিয়া গ্রেকো প্রমাণ করেছেন, শরীরের সীমাবদ্ধতা মনের গতির কাছে কতটা তুচ্ছ। মাঠের লড়াইয়ে দাপট দেখিয়েছে চীন। ৪৪টি পদক নিয়ে তালিকার শীর্ষে তারা। তবে স্বাগতিক ইতালিও কম যায়নি, ১৬টি পদক নিয়ে ঘরের মাঠে ইতিহাস গড়েছে তারা। প্রথমবারের মতো মেডেল জিতেছে ব্রাজিল ও লাটভিয়ার মতো দেশগুলো।

Manual2 Ad Code

বিদায়ের সুর বাজতেই প্যারা অলিম্পিক পতাকা তুলে দেওয়া হলো পরবর্তী আয়োজক ফ্রান্সের হাতে। মিলানো আর কোর্টিনার আকাশ যখন আতশবাজিতে রাঙানো, তখন মিলানোর ‘আর্কো ডেলা পেস’-এ নিভে যায় শিখা। সেই সাথে শুরু হয় ফ্রেঞ্চ আল্পস ২০৩০-এর অপেক্ষা।
শিখা নিভেছে ঠিকই, কিন্তু রেখে গেছে মানবিক সংহতির এক অমর বার্তা।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code