২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মালদ্বীপে প্রবাসীদের ঈদুল ফিতর উদযাপন

editor
প্রকাশিত মার্চ ২০, ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ণ
মালদ্বীপে প্রবাসীদের ঈদুল ফিতর উদযাপন

Manual8 Ad Code

মালদ্বীপে প্রবাসীদের ঈদুল ফিতর উদযাপন

শেখ স্বপ্না শিমুঃ দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিম বিশ্বে আনন্দের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। মধ্যপ্রাচ্য ও আরব-আফ্রিকার অন্যান্য দেশের মতো দক্ষিণ এশিয়ার নীলনদ আর বিশ্ব পর্যটনের দেশ মালদ্বীপেও শুক্রবার (২০ মার্চ) উদযাপিত হয়েছে মুসলমানদের সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসব।

Manual3 Ad Code

মালদ্বীপের রাজধানী মালের জাতীয় ঈদগাহসহ বেশ কয়েকটি বড় বড় মসজিদে দূরদূরান্ত থেকে এসে স্থানীয় নাগরিকদের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এসব ঈদের জামাতগুলোতে যোগ দেন।

Manual4 Ad Code

ঈদের নামাজ-খোতবা শেষে স্থানীয় জনসাধারণের পাশাপাশি দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথেও এসময় ঈদের কুশল বিনিময় করেন দেশটির প্রসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু।

ভোর থেকেই রঙিন পাজামা-পাঞ্জাবি পরে ঈদগাহ ময়দানের দিকে ছুটে চলার মধ্য দিয়েই দেশটিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদ আনন্দ শুরু হয়।ঈদের জামাতের পর-পরই চলে কোলাকুলি আর কুশল বিনিময়। যা ঈদের পরিবেশকে আরও বর্ণিল করে তোলে। তবে এসব উৎসবের হাসির ফাঁকেও লুকিয়ে থাকে তাদের দীর্ঘশ্বাস, দেশের মাটির গন্ধ, মায়ের হাতের রান্না, বাবার ডাক আর শৈশবের ঈদ ফিরে পাওয়ার আকুলতা।

ঈদ ঘিরে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে আয়োজন করা হয় হরেক রকমের দেশীয় খাবারের।নামাজ শেষে প্রবাসীরা দলবদ্ধভাবে এসব খাবারের স্বাদ নেয়ার পাশাপাশি রাজধানী মালেও এর আসপাশের শহরগুলোতে ঘুরে ফিরে ঈদের আনন্দ উপভোগ করেন আর মুঠোফোনে দেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে ভাগ করে নেন ঈদের শুভেচ্ছা।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক লিখিত বার্তায় প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু মালদ্বীপসহ বিশ্বের সকল মুসলিম সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন। সেইসাথে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ক্ষমতায়ন, মর্যাদা, সমৃদ্ধির পাশাপাশি ফিলিস্তিন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অংশে চলমান দুর্ভোগ দ্রুত নিরসনের আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া ওই সমস্ত ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মালদ্বীপের জনগণ সবসময়ই রয়েছে বলে যোগ করেন তিনি।

Manual5 Ad Code

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসী ও মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনের শ্রম কাউন্সেলর মো. সোহেল পারভেজ।

Manual7 Ad Code

এছাড়াও বিএনপি মালদ্বীপ শাখার সভাপতি মো. খলিলুর রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-সহ দেশ ও প্রবাসের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এইবারের ঈদের সময় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মতো প্রতিকূল সময় পার করছেন দক্ষিণ এশিয়ার এ পর্যটন নির্ভর দেশটিও। যেহেতু মালদ্বীপের অর্থনীতি সম্পুর্ন পর্যটন ও আমদানি নির্ভর, সেহেতু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের উত্তাপ এখন দেশটির জনজীবনেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কিত ব্যয় সংকোচনের কথা বিবেচনায় রেখে এবারের ঈদ উদযাপনে নেই কোনো সরকারি উদ্যোগে জমকালো অনুষ্ঠান ও শহুরে আলোকসজ্জা।জামাতের সহিত নামাজ আদায় শেষে সকলের সাদামাটা ঈদ উদযাপনেই ছিলো সীমাবদ্ধ।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code