নারী এশিয়ান কাপ হেরে গিয়েও মানুষের মন জিতে নিলো ইরান।
শেখ স্বপ্না শিমুঃ হেরেও কী আবার কোনো কিছু জেতা যায় নাকি? হ্যাঁ, কিছু কিছু সময় মাঠের খেলায় হেরে গেলেও মানুষের মন তো জেতা সম্ভব। এই যেমন, ইরানের কথায় বলি; দেশের বাতাসে বারুদের গন্ধ। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ইরানে একের পর এক বাড়ছে ধ্বংসস্তূপ। দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনি নিহত হয়েছেন। সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতিও কম হয়নি। সেই ধ্বংসস্তুপের মাঝে স্বজনদের রেখে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে এশিয়ান কাপে আজ নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেললেন ইরানের মেয়েরা। মাঠের খেলায় যদিও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে তারা, তবে তারা জয় করে নিয়েছে মানুষের মন।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে ইরান।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইরান আছে ৬৮তম স্থানে, আর দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান ২১তম। দুই দলের মাঝে ফারাক অনেক, মাঠের লড়াইয়ে কী হতে পারে তাও নিশ্চই আন্দাজ করা কঠিন ছিল না। মাঠের খেলায় হলোও তাই, তবে ম্যাচ হারলেও ইরানের মেয়েরা তো আসলে মাঠে নেমেই জিতে গেছে।
ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে চো ইউ-রির গোলে এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া। বিরতির পর ৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে কিম হেই-রি দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। আর ৭৫ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন ইউ জিন-কো।
তবে মাঠের স্কোরলাইন যাই হোক, নিজ দেশের ধ্বংসযজ্ঞ, স্বজনদের জীবন নিয়ে শঙ্কা, এসব বিষয় মাথায় রেখে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টা করাটা স্কোরলাইনের চেয়ে নেহাতি কম নয়। এসব বিষয় বুকে পাথরচাপা দিয়ে মাঠে নামার জন্যই জিতে গেছেন ইরানের মেয়েরা। গ্যালারি থেকেও অবশ্য পেয়েছেন দর্শকদের করতালি।
এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান কাপে খেলছে ইরান। ২০২২ সালে বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকে। এবার ‘এ’ গ্রুপে দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়া ইরানের বাকি দুই প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইন।
৫ মার্চ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে ইরান। ১২টি দল খেলছে তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল সরাসরি জায়গা করে নেবে নকআউট পর্বে। এই তিনটি গ্রুপ থেকে আবার শীর্ষ দুই তৃতীয় দল জায়গা পাবে নকআউট পর্বে।
Sharing is caring!