২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘সরাসরি যুদ্ধ’ ঘোষণার অর্থ কী?

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘সরাসরি যুদ্ধ’ ঘোষণার অর্থ কী?

Manual6 Ad Code

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘সরাসরি যুদ্ধ’ ঘোষণার অর্থ কী?

শেখ স্বপ্ন শিমুঃ আফগানিস্তানের কয়েকটি শহরে ভয়াবহ বিমান হামলার পর দেশটির বিরুদ্ধে ‘সরাসরি যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগান বাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের ওপর আক্রমণ করার পর আফগানিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে ধারাবাহিক হামলার মধ্যেই খাজা আসিফ এই ঘোষণা দেন।

Manual1 Ad Code

পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী পোস্টে লেখেন, ‘পাকিস্তান সরাসরি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। পূর্ণাঙ্গ কূটনীতি চালানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন এটি আমাদের এবং তোমাদের (আফগানিস্তান) মধ্যে প্রকাশ্য যুদ্ধ।’

Manual4 Ad Code

এখন প্রশ্ন হলো সরাসরি বা প্রকাশ্য যুদ্ধ এর অর্থ কী? এই প্রসঙ্গে আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আমিন সইকাল বিবিসির নিউজডে প্রোগ্রামে বলেন, এটি একটি ‘অত্যন্ত গুরুতর অগ্রগতি’ এবং ইসলামাবাদ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা আফগান তালেবানদের ‘শাস্তি’ দিতে চায়, যাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে সাম্প্রতিক হামলার নেপথ্যে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে মদদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর আরব অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের প্রতিষ্ঠাতা সইকাল বলেছেন, ‘দুই পক্ষই দীর্ঘদিন ধরেই একে অপরের মুখোমুখি অবস্থান করছে। এখন, পাকিস্তানিরা ঘাড়ের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা তালেবানদের পাকিস্তানি তালেবানদের সমর্থন করার জন্য সত্যিই শাস্তি দিতে চায়, যারা গত এক বা দুই বছরে পাকিস্তানি লক্ষ্যবস্তুতে বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালিয়েছে এবং প্রচুর মানুষকে হত্যা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই উত্তেজনা বৃদ্ধি আফগান জনগণের জন্য বিপর্যয়কর হবে, যারা নিজেরা অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গে যুদ্ধ করছেন।’
এদিকে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাসে চালানো এ হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

Manual2 Ad Code

তিনি আরও বলেন, ‘এ হামলা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করার আরেকটি চেষ্টা। আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতার প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

Manual1 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code