৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২২শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বিশ্বকাপের সব ম্যাচের টিকিট ‘বিক্রি শেষ’, নিশ্চিত করলো ফিফা।

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৮:৩৯ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপের সব ম্যাচের টিকিট ‘বিক্রি শেষ’, নিশ্চিত করলো ফিফা।

Manual3 Ad Code

বিশ্বকাপের সব ম্যাচের টিকিট ‘বিক্রি শেষ’, নিশ্চিত করলো ফিফা।

স্বপ্না শিমুঃ মাস চারেক পরেই মাঠে গড়াবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের সব টিকিটই ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করলো ফিফা।
চার মাস আগেই বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি শেষ।

Manual4 Ad Code

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, মূল বিক্রয় পর্বের চার সপ্তাহেই টিকিটের জন্য আবেদন পড়েছে ৫০ কোটি ৮০ লাখের বেশি। অথচ ওই সময়ে বিক্রির জন্য ছিল প্রায় ৭০ লাখ আসন। চাহিদা-জোগানের এই বিশাল ব্যবধানের মধ্যেই সব আসন বরাদ্দ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

Manual7 Ad Code

ফিফা সভাপতির দাবি, অংশগ্রহণকারী ১০৪ ম্যাচের মধ্যে ৭৭টি ম্যাচের প্রতিটিতেই টিকিটের আবেদন ছিল ১০ লাখের বেশি। ২০০টিরও বেশি দেশ থেকে আবেদন আসায় ফুটবলের বৈশ্বিক আকর্ষণ আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, দর্শকসংখ্যা ও আগ্রহের দিক থেকে এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের নতুন রেকর্ড গড়বে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, সব ম্যাচের টিকিট বরাদ্দ হয়ে গেলেও পুরো কোটার একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। এই অবশিষ্ট টিকিটের জন্য আলাদা একটি বিক্রয়পর্ব শুরু হবে আগামী এপ্রিল থেকে, যা চলবে টুর্নামেন্টের শেষ দিন ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত।

Manual8 Ad Code

এই শেষ ধাপের টিকিট বিক্রি হবে ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে। অর্থাৎ, আগের ধাপে অধিকাংশ আসন বরাদ্দ হয়ে গেলেও সীমিতসংখ্যক টিকিট তখনও সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।

Manual5 Ad Code

২০২৬ আসরেই প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশ নেবে বিশ্বকাপে। আয়োজক তিন দেশ— যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় সব মিলিয়ে ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ম্যাচসংখ্যা ও দল বৃদ্ধির কারণে দর্শকসংখ্যা এবং বাণিজ্যিক আয়ের ক্ষেত্রেও নতুন মাইলফলক গড়ার প্রত্যাশা করছে ফিফা।ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভাষায়, ‘এই বিশ্বকাপ শুধু ক্রীড়া নয়, বৈশ্বিক উৎসব। টিকিটের বিপুল চাহিদাই তার প্রমাণ।’

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code