২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সিঙ্গাপুর মসজিদের ইফতার তহবিলে ১০ হাজার ডলার দান ১০ প্রবাসী বাংলাদেশির।

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ণ
সিঙ্গাপুর মসজিদের ইফতার তহবিলে ১০ হাজার ডলার দান ১০ প্রবাসী বাংলাদেশির।

Manual4 Ad Code

সিঙ্গাপুর মসজিদের ইফতার তহবিলে ১০ হাজার ডলার দান ১০ প্রবাসী বাংলাদেশির।

স্বপ্না শিমুঃ বিদেশের মাটিতে থেকেও ভ্রাতৃত্ব ও কৃতজ্ঞতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ১০ জন বাংলাদেশি অভিবাসী। সিঙ্গাপুরে পবিত্র রমজান মাসে মুসল্লিদের ইফতারের আয়োজনে সহায়তা করতে তারা যৌথভাবে ১০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার (যা বর্তমান বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯ লক্ষ টাকার বেশি) সংগ্রহ করে স্থানীয় একটি মসজিদের ইফতার তহবিলে দান করেছেন।
বিদেশের মাটিতে থেকেও ভ্রাতৃত্ব ও কৃতজ্ঞতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ১০ জন বাংলাদেশি অভিবাসী।

Manual3 Ad Code

সিঙ্গাপুরে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে রোজা শুরু হয়েছে। অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর মতোই পবিত্র রমজান উপলক্ষে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত ও সমৃদ্ধ এ দেশটিতেও মসজিদে মসজিদে ইফতারের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

Manual8 Ad Code

স্থানীয় মালাবার মসজিদে স্থানীয়দের পাশাপাশি ইফতার তহবিল গঠনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশি অভিবাসীরা। দান করেছেন ১০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার যার নেতৃত্বে রয়েছেন ব্যবসায়ী রেজাউল করিম।

Manual6 Ad Code

রেজাউল করিম ২০০১ সালে সিঙ্গাপুরে নিজস্ব নির্মাণ ব্যবসা এএজি কন্সট্রাকশন শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত মালাবার মসজিদে যাতায়াত করেন। রমজান মাসে এই মসজিদে নিয়মিত ইফতারের আয়োজন করা হয়। নিজের দেশের মতো ধর্মীয় অনুভূতি ও একাত্মতা খুঁজে পাওয়ার লক্ষ্যে তিনিও এই মসজিদে অনুদান দেয়ার পরিকল্পনা করেন।

Manual6 Ad Code

৪০ বছর বয়সি রেজাউল করিম জানান, ২০২৫ সালের শুরু থেকেই তিনি এবং তার সমমনা ১০ বন্ধু মিলে প্রতিদিন সঞ্চয় শুরু করেন। বছর শেষে জমাকৃত সেই ১০ হাজার ডলার তারা মসজিদের ইফতার তহবিলে তুলে দেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রেজাউল করিম বলেন, ‘মালাবার মসজিদ প্রতি রমজানে যেভাবে ইফতারের ব্যবস্থা করে তার তুলনায় আমাদের এই অবদান খুবই সামান্য। বাংলাদেশের মসজিদেও আমরা কাপড়, মিষ্টি ও বিভিন্ন সামগ্রী দান করি। এখানে ইফতারের আয়োজন আমাকে আমার দেশের কথা মনে করিয়ে দেয় এবং নিজেকে খুব সমাদৃত মনে হয়।’

মসজিদের নির্বাহী চেয়ারম্যান এম. কে. জামিল জানান, এই মসজিদের মুসল্লিদের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই বাংলাদেশি যাদের মধ্যে যেমন ব্যবসায়ী রয়েছেন তেমনি আছেন প্রবাসী শ্রমিক ভাইরাও। তিনি বলেন, এই মসজিদটি বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। নিখরচায় ইফতারের ব্যবস্থা আমাদের অভিবাসী শ্রমিক ভাইদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা।’

এই ১০ জন বাংলাদেশি এবং আরও অনেক প্রবাসী নিয়মিত এই মসজিদে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। ইফতারের সময় খাবার পরিবেশন এবং ভিড় সামলানোর মতো কঠিন কাজগুলো তারা হাসিমুখে সম্পন্ন করেন। মসজিদের ৫-এস (হাসি, সালাম, সম্ভাষণ ও শিষ্টাচার) নীতি অনুসরণ করে তারা আগত মুসল্লিদের সেবা দিয়ে থাকেন।

২০২৪ ও ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মালাবার মসজিদে ইফতার করতে আসা মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ২০২৫ সালে প্রতিদিন গড়ে ৯০০ জন এবং সপ্তাহান্তে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন মুসল্লি এখানে ইফতার করেছেন। চলতি বছর রমজানে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code