২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর!

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর!

Manual8 Ad Code

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর!

শেখ স্বপ্না শিমুঃ বিদেশি শিক্ষার্থীদের ৩ লাখের মাইলফলক অতিক্রম করে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বিদেশি শিক্ষার্থী ও স্নাতকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ভিসা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে দেশটি। এবার আসতে পারে দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের সুখবর।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ‘নন-প্রফেশনাল’ খাতে কাজের সুযোগ দিতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া? এমন শিরোনামে মঙ্গলবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য কোরিয়া হেরাল্ড।

প্রতিবেদনটিতে শিক্ষার্থীদের কাজের বৈধতার প্রস্তাবনা নিয়ে বিল উত্থাপন করে দেশটির প্রধান বিরোধী দল। যদিও বর্তমানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের হাতেগোনা নির্দিষ্ট কয়েকটি সেক্টরে কাজের অনুমতি আছে। যা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।

জাতীয় পরিষদে উত্থাপিত নতুন সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্টুডেন্ট ভিসাধারীদেরও শ্রমনির্ভর বা “নন-প্রফেশনাল” খাতে কাজের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। প্রধান বিরোধী দল ’পিপল পাওয়ার পার্টি’-এর আইনপ্রণেতা কিম উই সাং এবং কিম সো হি পৃথকভাবে এ সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করেছেন।

Manual4 Ad Code

প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে ডি-২ (স্টুডেন্ট) ভিসায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীরা এবং স্নাতক শেষে ডি-১০ (চাকরি-প্রত্যাশী) ভিসায় অবস্থানকারীরা উৎপাদন, নির্মাণ, কৃষি, মৎস্য ও জাহাজ নির্মাণের মতো খাতে কাজ করতে পারবেন—যে খাতগুলো এতদিন কেবল ই-৯ ভিসাধারীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল।

আইনপ্রণেতাদের মতে, কোরিয়ান ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ইতিমধ্যে পরিচিত বিদেশি শিক্ষার্থীদের দেশে ধরে রাখা গেলে শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণ সহজ হবে। একই সঙ্গে ভিসা অনিশ্চয়তার কারণে দক্ষ জনশক্তি হারানোর ঝুঁকিও কমবে।

বর্তমানে ডি-২ ভিসাধারীরা সীমিত সময়ের জন্য খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন, তবে কাজের ধরন, সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ও অনুমতির মেয়াদে কড়াকড়ি রয়েছে। স্নাতকের পর ডি-১০ ভিসা সর্বোচ্চ তিন বছর রাখা গেলেও, নিজ বিষয়ে চাকরি না পেলে দেশে বৈধভাবে থাকার সুযোগ কমে যায়।

Manual2 Ad Code

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অধ্যয়ন শেষে ৪২.৯ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে—যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। একই বছরে দেশে চাকরি পেয়েছেন মাত্র ১৩.৮ শতাংশ বিদেশি স্নাতক।

Manual3 Ad Code

সরকার ইতোমধ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। বছরের প্রথমার্ধে বিদেশি কর্মসংস্থান আইনের সংশোধনী প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা রয়েছে। শ্রম মন্ত্রণালয় ইঙ্গিত দিয়েছে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের অস্থায়ীভাবে ই-৯ ভিসায় রূপান্তরের বিষয়টিও আলোচনায় আছে।

কিম উই সাং বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ায় ডিগ্রি অর্জনকারী বিদেশিদের ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়া জাতীয়ভাবে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।’ ইওনসেই ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লি জং কাওয়ান মনে করেন, নন-প্রফেশনাল খাতে কাজের অনুমতি স্বল্পমেয়াদি সমাধান হতে পারে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী বসবাস ও কর্মসংস্থানের সুস্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করা জরুরি। তার মতে, আঞ্চলিক শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গেলে জনসংখ্যা হ্রাস মোকাবিলা এবং সুষম জাতীয় উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

সংশোধনী বিল এখনও চূড়ান্তভাবে পাস হয়নি। তবে সংসদীয় উদ্যোগ, সরকারি টাস্কফোর্স এবং নীতিগত আলোচনা বিবেচনায় ধারণা করা হচ্ছে—২০২৬ সালের মধ্যেই বিদেশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।

Manual8 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code