২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলামকে গুলি করে হত্যা

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ণ
গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলামকে গুলি করে হত্যা

Manual2 Ad Code

গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলামকে গুলি করে হত্যা

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ লিবিয়ার সাবেক শাসক কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলামকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ৫৩ বছর বয়সী সাইফের মৃত্যুর বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা লিবিয়ান নিউজ এজেন্সি।

Manual1 Ad Code

সাইফ আল-ইসলামের মৃত্যু নিয়ে তার আইনজীবী ও বোন ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা দিয়েছেন।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সাইফ আল-ইসলামের রাজনৈতিক দলের প্রধান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয়। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক বিবৃতিতে সাইফ আল-ইসলামের আইনজীবী জানান, চার সদস্যের একটি ‘কমান্ডো ইউনিট’ লিবিয়ার জিনতান শহরে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে। হামলার পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ঘটনার ভিন্ন বর্ণনা দিয়েছেন তার বোন। লিবিয়ার একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে তিনি বলেন, সাইফ আল-ইসলাম আলজেরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় নিহত হয়েছেন।

Manual2 Ad Code

তার বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পর দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি। ১৯৭২ সালে জন্ম নেওয়া সাইফ ২০০০ সালের পর থেকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে লিবিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার উদ্যোগেই এক সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে হয়ে পড়া লিবিয়া ধীরে ধীরে কূটনৈতিকভাবে স্বীকৃতি পেতে শুরু করে।

বিশেষ করে গাদ্দাফি সরকারের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগের পেছনে সাইফ আল-ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ওই সিদ্ধান্তের পর লিবিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। সে সময় অনেকেই তাকে পরিবর্তনশীল লিবিয়ার ‘সংস্কারপন্থী মুখ’ হিসেবে দেখেছিলেন।

Manual6 Ad Code

তবে ২০১১ সালে আরব বসন্তের ঢেউয়ে গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর সাইফকে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে সহিংস ভূমিকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। এরপর জিনতান শহরে একটি বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী তাকে প্রায় ছয় বছর আটক করে রাখে।

Manual8 Ad Code

২০১৫ সালে লিবিয়ার একটি আদালত তার অনুপস্থিতিতে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০১১ সালের বিক্ষোভ দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে চেয়েছিলেন।

যদিও সাইফ বরাবরই দাবি করে আসছিলেন, তিনি তার বাবার উত্তরসূরি হতে চান না। একসময় তিনি বলেছিলেন, ‘ক্ষমতা কোনো উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিজমা নয়।’ তবু ২০২১ সালে তিনি লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে সেই নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়। সাইফের মৃত্যুর খবরে লিবিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পেছনের শক্তি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি দেশটির সরকার।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code