৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে উড়িয়ে সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৪:৪৬ অপরাহ্ণ
মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে উড়িয়ে সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

Manual2 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরেই বাজিমাত করলো বাংলাদেশ। পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন হলো লাল সবুজরা। গোল উৎসব করে শিরোপা জিতে নিলো বাংলাদেশ।

Manual4 Ad Code

থাইল্যান্ডের ব্যাংককের ননথাবুরি হলে রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাউন্ড রবিন লিগে নিজেদের ষষ্ঠ ও শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সাবিনা-মাসুরারা। ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে সেরা হলো লাল সবুজরা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভুটান শেষ ম্যাচ জিতলেও পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে থাকবে। পাঁচ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১১।

এবারের আসরে শুধু একটি ম্যাচে জয়বঞ্চিত ছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। ভুটানের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল সাবিনারা। বাকি সব ম্যাচেই তুলে নেয় লাল সবুজরা। আর শেষ ম্যাচটাই তো একেবারে প্রতিপক্ষকে উড়িয়েই দিয়েছে মেয়েরা।

Manual2 Ad Code

ভারতকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবার আয়োজিত সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ভুটান ম্যাচের পরবর্তী তিন ম্যাচে যথাক্রমে নেপালকে ৩-০, শ্রীলঙ্কাকে ৬-২ এবং পাকিস্তানকে ৯-১ গোলে হারিয়েছিল। তাতেই শিরোপার পথ খুলে গিয়েছিল সাবিনাদের। তবে শেষ ম্যাচে কোনো অঘটন হলে সুযোগ পেয়ে যেতো ভুটান। কিন্তু তাদের সে সুযোগ দেয়নি লাল সবুজরা। যদিও এদিন মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল দল।

Manual1 Ad Code

চতুর্থ মিনিটে প্রতিপক্ষকে লিড এনে দিয়েছিলেন সানিয়া ইব্রাহিম। ম্যাচে ফিরতে অবশ্য সময় নেয়নি বাংলাদেশ। একটু পরই দূরপাল্লার ফ্রি কিকে দারুণ এক গোল করে সমতায় ফেরান সাবিনা। এরপর পেনাল্টি মিস করে হতাশ করলেও কিছুক্ষণ পরই সার্কেলের বাইরে থেকে ফ্রি কিক থেকেই ব্যবধান বাড়ান সাবিনা। এরপর কৃষ্ণা রানী, লিপি আক্তার ও নৌশিন জাহানের কল্যাণে ৬-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

Manual1 Ad Code

দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে দূরপাল্লার শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সাবিনা। এরপর গোল করে ব্যবধান বাড়ান মাতসুশিমা সুমাইয়া। পঞ্চম মিনিটে নিজের চতুর্থ গোলে স্কোরলাইন ৯-১ করেন সাবিনা।

দশম মিনিটে নীলার কোনাকুনি শটে ব্যবধান আরও বাড়ে। এরপর সাবিনার ফ্লিকে বল পাওয়ার পর লিপি পূরণ করেন হ্যাটট্রিক। লাল সবুজরা ব্যবধান বাড়াতে বাড়াতে একটা সময় ১৬-১ এ নিয়ে যায়। শেষদিকে একটি গোল করে ব্যবধান কমায় মালদ্বীপ। ততক্ষণে বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। রেফারি বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধনভাঙা উদযাপনে মেতে ওঠেন সাবিনারা।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code