২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বাংলা ভাষা কোর্স চালু করতে আগ্রহী মালদ্বীপের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ণ
বাংলা ভাষা কোর্স চালু করতে আগ্রহী মালদ্বীপের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

Manual5 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষা শিক্ষা কোর্স চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটির জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (এমএনইউ)। মালদ্বীপের পর্যটন খাতের চাহিদা ও দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করতে এই উদ্যোগ নেয়ার কথা জানানো হয়।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের সঙ্গে দেশটির জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকে এমন আগ্রহের কথা জানান এমএনইউ-এর উপাচার্য ড. আইশাথ শেহনাজ আদাম। এসময় এমএনইউ-এর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউট ও একাডেমিক বিভাগের প্রধানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Manual8 Ad Code

বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে একাডেমিক সহযোগিতা বাড়াতে এমএনইউ-এর আগ্রহ স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

বৈঠকে হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নজমুল ইসলাম এমএনইউ ও বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্ব দেন। একইসাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) ও বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চলমান যোগাযোগের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এমএনইউ-এর উপাচার্য জানান,বাংলাদেশ থেকে স্বল্পমেয়াদি অতিথি শিক্ষক আমন্ত্রণ, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং যৌথ গবেষণা কার্যক্রমে তারা আগ্রহী। এমএনইউ-এর আওতায় ২১টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় যৌথ সেমিনার ও সম্মেলনের বড় সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Manual3 Ad Code

এছাড়াও মালদ্বীপে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের নানা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে এমএনইউ ইতোমধ্যে গবেষণা চালিয়েছে বলেও জানান উপাচার্য। এসব গবেষণায় প্রবাসীদের মধ্যে সেবা সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ নেয়ারও আগ্রহ প্রকাশ করে এমএনইউ।

Manual7 Ad Code

মালদ্বীপের পর্যটন খাতের বাস্তবতা বিবেচনায় এমএনইউ-তে বাংলা ভাষা কোর্স চালুর প্রস্তাবও দেন উপাচার্য। বলেন, বর্তমানে এমএনইউ-তে বাংলাদেশি পেশাজীবীরা কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিল্পীদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতেও আগ্রহ রয়েছে।

Manual5 Ad Code

এমএনইউ-এর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। ভবিষ্যতে যৌথ সেমিনার, আন্তর্জাতিক সম্মেলন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় ও গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি। বৈঠক শেষে উভয়ে আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code