২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্রে শীতকালীন ঝড়ে বিপর্যস্ত ১৩ হাজার ফ্লাইট বাতিল, ১৭ অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে শীতকালীন ঝড়ে বিপর্যস্ত ১৩ হাজার ফ্লাইট বাতিল, ১৭ অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা

Manual1 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

তুষারপাতের পাশাপাশি শক্তিশালী শীতকালীন ঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ১৩ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই শক্তিশালী ঝড়ে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বরফে ঢাকা পড়ে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

Manual3 Ad Code

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ওকলাহোমার তুলসায় তুষারপাতের মধ্যে যানবাহন চলতে দেখা যায়।

Manual8 Ad Code

আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের কারণে দেশটির অন্তত ১৭টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ঝড়ের প্রভাবে নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১৪ কোটি মানুষ, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি, শীতঝড় সতর্কতার আওতায় রয়েছে।

Manual2 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দফতর (ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস) জানিয়েছে, শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণ রকি পর্বতমালা থেকে শুরু করে নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলজুড়ে ভারী তুষারপাত, বরফ বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে টানা কয়েকদিন তীব্র শীতের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে জনগণকে।

ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের আবহাওয়াবিদ অ্যালিসন সান্টোরেলি বলেন, ‘তুষার এবং বরফ গলতে অনেক সময় নেবে এবং এটি খুব দ্রুত যাচ্ছে না; ফলে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হতে পারে। শনিবারের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অন্তত এক ডজন অঙ্গরাজ্যের জন্য জরুরি ঘোষণা অনুমোদন করেছেন এবং আরও অঙ্গরাজ্য এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মন্ত্রী ক্রিস্টি নোম জানিয়েছেন, ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (এফইএমএ) বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ত্রাণসামগ্রী, কর্মী এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল আগেভাগেই মোতায়েন করেছে। নোম বলেন, ‘আমরা শুধু চাই সবাই সচেতন থাকুক—সম্ভব হলে ঘরেই অবস্থান করুন।’

দক্ষিণাঞ্চলের কিছু অঙ্গরাজ্যে শনিবার বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হলেও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্যে বাসিন্দাদের শেষ মুহূর্তের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল বলেন, ‘আমরা এমন একটি ঝড়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, যা বহু বছর ধরে দেখা যায়নি।’

পাওয়ার আউটেজ ডট কমের অনুযায়ী, শনিবার শীতকালীন ঝড়ের কবলে পড়া এলাকাগুলোতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে টেক্সাস ও লুইসিয়ানায় ৫ হাজার করে গ্রাহক রয়েছেন।

লুইসিয়ানা সীমান্তের কাছে টেক্সাসের শেলবি কাউন্টিতে বরফের ভারে পাইন গাছ এবং ডালপালা ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার কাউন্টির ১৬ হাজার বাসিন্দার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন।

Manual1 Ad Code

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ার-এর তথ্যমতে, শনিবার এবং রোববার মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ১৩ হাজত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ওকলাহোমা সিটির উইল রজার্স ওয়ার্ল্ড এয়ারপোর্টে শনিবারের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া রবিবারের সকালের ফ্লাইটগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে; তবে কর্মকর্তারা রোববার বিকেল থেকে ওকলাহোমার এই বৃহত্তম বিমানবন্দরে পরিষেবা পুনরায় শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code