২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মিনেসোটায় অভিবাসন বিভাগের এজেন্টের গুলিতে আরেক মার্কিন নাগরিক নিহত

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৫:৫১ অপরাহ্ণ
মিনেসোটায় অভিবাসন বিভাগের এজেন্টের গুলিতে আরেক মার্কিন নাগরিক নিহত

Manual2 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

Manual1 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও এক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে বর্ডার পেট্রোল বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সি এক ব্যক্তি নিহত হন।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে ৩৭ বছর বয়সি অ্যালেক্স প্রেটিকে গুলি করে হত্যার ঘটনাস্থলের কাছে একজন বিক্ষোভকারীকে খুব কাছ থেকে মরিচ স্প্রে করা হচ্ছে।

Manual1 Ad Code

এক বিবৃতিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, নিহত ব্যক্তির হাতে অস্ত্র ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে নিরস্ত্র করতে চাইলে তিনি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। সরকারি এজেন্টরা নিজেদের আত্মরক্ষার্থে তার ওপর গুলি চালায়।

Manual5 Ad Code

এদিকে ঘটনার তদন্তের আগেই ট্রাম্পের সহযোগী হোয়াইট হাউসের সিনিয়র সহকারী স্টিফেন মিলার নিহত ব্যক্তিকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। যদিও পুলিশ প্রধান বলছেন, গুলির ঘটনা এখনও স্পষ্ট নয়।

মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে অভিযোগ করেছেন, মুখোশধারী এজেন্টরা স্থানীয় বাসিন্দাদের মারধর ও গুলি করে হত্যা করছে। তিনি শহরে কর্মরত ফেডারেল এজেন্টদের দায়মুক্তিরও নিন্দা জানান।

চলমান অভিবাসী ধরপাকড় ও বিক্ষোভের মধ্যে মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মিনিয়াপোলিস থেকে আইস সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি ফেডারেল এজেন্টদের গুলি চালানোর ঘটনা তদন্তেরও অনুমতি চেয়েছেন।

Manual4 Ad Code

চলতি মাসের শুরুর দিকে দেশটির অভিবাসন ও কাস্টমস বিভাগের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন সদস্যের গুলিতে মিনিয়াপোলিসে ৩৭ বয়সি এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত রেনি নিকোল গুড মার্কিন নাগরিক ছিলেন।

অভিবাসন বিরোধী অভিযানে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিস শহর। তীব্র সমালোচনার মাঝেও আটক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বিতর্কিত অভিবাসন পুলিশ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট- আইসিই। অভিযানে প্রায় প্রতিদিনই আটক করা হচ্ছে অভিবাসীদের।

নতুন করে একটি গাড়ি আটকানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, চালককে গাড়ি থেকে জোর করে নামিয়ে মাটিতে ফেলে দেন আইসিই কর্মকর্তারা। এ সময় তাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা আটকে দেন পথচারীরা। প্রতিবাদের মুখে পরে ওই চালককে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় আইসিই।

এর আগে অভিবাসীবিরোধী অভিযানকালে গত মঙ্গলবার পাঁচ বছর বয়সি এক শিশু এবং তার বাবাকে আটক করে অভিবাসন পুলিশ আইসিই। এ ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসী, শিক্ষা প্রশাসন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

এরপর বৃহস্পতিবার এজেন্টরা দুই বছরের এক শিশুকন্যা এবং তার বাবাকে আটক করে টেক্সাসে পাঠিয়ে দিয়েছেন। পরিবারের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, আইসিই সদস্যদের কাছে কোনো ওয়ারেন্ট ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিকে মানবধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।

অভিবাসন নীতি ও আইন প্রয়োগের সময় ব্যক্তিগত অধিকার ও ন্যায্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে গ্রেফতার উদ্বেগজনক।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code