২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ডে’ সৌদি-পাকিস্তানসহ ৮ মুসলিম দেশ

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ণ
ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ডে’ সৌদি-পাকিস্তানসহ ৮ মুসলিম দেশ

Manual8 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

ফিলিস্তিনের গাজা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা গাজা শান্তি বোর্ডে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরবসহ ৮টি মুসলিম দেশ।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) এক যৌথ ঘোষণায় এই বিষয়টি জানায় দেশগুলো।

গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ফাঁকে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আরব ও মুসলিম দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছেন, কিছু দেশের ক্ষেত্রে পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়া এই বোর্ডে যোগ দেয়া সম্ভব না-ও হতে পারে।

Manual2 Ad Code

ট্রাম্পের শান্তি পরিষদে যোগ দেয়া আটটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এই আট দেশ বোর্ড অব পিসে তাদের একজন করে প্রতিনিধি পাঠাবে।

টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিশর, পাকিস্তান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এরইমধ্যে শান্তি পরিষদে যোগদানের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বাকি পাঁচটি দেশ সিদ্ধান্তটি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছিল।

ট্রাম্প বিশেষভাবে সৌদি আরবকে এই পর্ষদে নিতে বিশেষভাবে আগ্রহী ছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে এতে যোগদানের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। যদিও রিয়াদ এতদিন পর্যন্ত নীরব ছিল।

Manual2 Ad Code

গাজার শান্তি পর্ষদকে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা তদারকি করার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেট দেয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই বোর্ডকে ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত সমাধানের প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও ব্যবহার করতে চায়।

প্রস্তাবিত এই বোর্ডের আজীবন চেয়ারম্যান হবেন ডনাল্ড ট্রাম্প। বোর্ডের স্থায়ী সদস্য হতে হলে প্রতিটি দেশকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে।

এদিকে গাজায় শান্তির জন্য আন্তর্জাতিক নানা উদ্যোগের মাঝেও ইসরাইলি বর্বরতা থেমে নেই।

Manual6 Ad Code

বুধবার (২১ জানুয়ারি) উপত্যকায় একটি ড্রোন পরিচালনাকারী ‘সন্দেহভাজনদের’ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে নেতানিয়াহুর সেনারা।

পরে জানা যায়, তাদের হামলায় প্রাণ গেছে মিশরীয় ত্রাণ সংস্থার হয়ে কাজ করা কয়েকজন সাংবাদিকের। পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় তাদের মরদেহ। একইদিন দখলদার বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন শিশুসহ কয়েকজন সাধারণ ফিলিস্তিনি।

এদিকে বুধবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানান, হামাস অস্ত্র সমর্পণে রাজি হয়েছে।

তিনি বলেন, অস্ত্র হাতে জন্ম নেয়া এই গোষ্ঠীর জন্য এই সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হলেও শান্তি রক্ষায় তাদের এটি করতেই হবে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সংগঠনটি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে হামাসকে দ্রুত নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।

গাজায় শান্তি ফেরাতে ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। ফিলিস্তিন ইস্যুটি মধ্যপ্রাচ্যের অগ্রাধিকারের তালিকায় সবার উপরে থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মিশরের প্রেসিডেন্ট বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনই হলো এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনার মূল চাবিকাঠি।

Manual5 Ad Code

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code