২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

জেরুজালেমে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিলো ইসরাইল

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০১:৪৩ অপরাহ্ণ
জেরুজালেমে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিলো ইসরাইল

Manual6 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

Manual7 Ad Code

পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল। আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী বুলডোজার দিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে একাধিক স্থাপনা ধ্বংস করে। এদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউএনআরডব্লিউএ।
আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী বুলডোজার দিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে একাধিক স্থাপনা ধ্বংস করে।

গাজা, পশ্চিম তীরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সহায়তা ও আশ্রয় দিয়ে থাকে ইউএনআরডব্লিউএ।এক বিবৃতিতে সংস্থাটির মুখপাত্র জোনাথন ফাওলার জানান, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ইসরাইলি বাহিনী কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের বের করে দেয়। এরপর বুলডোজার দিয়ে বড় বড় ভবনসহ কয়েকটি ছোট স্থাপনা ভাঙা শুরু করে।

Manual5 Ad Code

এ সব পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে জোনাথন ফাওলার বলেন, ‘এটি ইউএনআরডব্লিউএ ও জাতিসংঘের স্থাপনার ওপর এক নজিরবিহীন হামলা। একই সঙ্গে এটি জাতিসংঘের বিশেষ অধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি সতর্কবার্তা। আজ ইউএনআরডব্লিউএর সঙ্গে যা ঘটছে, আগামীকাল তা বিশ্বের যেকোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গেও ঘটতে পারে।’

Manual8 Ad Code

ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে ইউএনআরডব্লিউএর বিরুদ্ধে হামাসকে আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ করে আসছে। তেল আবিবের দাবি, সংস্থাটির কিছু কর্মী ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলায় জড়িত ছিল—যার মধ্য দিয়ে গাজায় যুদ্ধের সূচনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ইসরাইল।

Manual1 Ad Code

গত বছর ইসরাইলের নির্দেশে ওই কার্যালয় ব্যবহার বন্ধ রাখে ইউএনআরডব্লিউএ। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রশাসন তখন সংস্থাটিকে তাদের সব স্থাপনা খালি করে কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশও দিয়েছিল।ফ্রান্সের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাথরিন কোলোনার নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তসহ একাধিক অনুসন্ধানে ইউএনআরডব্লিউএতে কিছু ‘নিরপেক্ষতা–সংক্রান্ত সমস্যা’ পাওয়া যায়। তবে সংস্থাটির বিরুদ্ধে ইসরাইলের প্রধান অভিযোগের পক্ষে চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইউএনআরডব্লিউএর স্থাপনা ভাঙার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির। তিনি বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক দিন, এটি উৎসবের দিন এবং জেরুজালেমের শাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। বছরের পর বছর এখানে সন্ত্রাসবাদের সমর্থকরা ছিলো। তারা যা কিছু তৈরি করেছিল- সবকিছু সরিয়ে দেয়া হচ্ছে আজ।’

সন্ত্রাসবাদের সব সমর্থকের সঙ্গেই এমনটাই হবে বলে সতর্কও করেন তিনি। ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ভাঙচুরের পক্ষে সাফাই গেয়ে জানায়, জেরুজালেমের এই কম্পাউন্ডটি ইসরাইল রাষ্ট্রের মালিকানাধীন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজকের পদক্ষেপ কোনো নতুন নীতি নয় বরং ইউএনআরডব্লিউএ–হামাস সংক্রান্ত বিদ্যমান ইসরাইলি আইনের বাস্তবায়ন।’

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code