২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জেরুজালেমে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিলো ইসরাইল

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০১:৪৩ অপরাহ্ণ
জেরুজালেমে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিলো ইসরাইল

Manual1 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল। আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী বুলডোজার দিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে একাধিক স্থাপনা ধ্বংস করে। এদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউএনআরডব্লিউএ।
আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী বুলডোজার দিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে একাধিক স্থাপনা ধ্বংস করে।

Manual8 Ad Code

গাজা, পশ্চিম তীরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সহায়তা ও আশ্রয় দিয়ে থাকে ইউএনআরডব্লিউএ।এক বিবৃতিতে সংস্থাটির মুখপাত্র জোনাথন ফাওলার জানান, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ইসরাইলি বাহিনী কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের বের করে দেয়। এরপর বুলডোজার দিয়ে বড় বড় ভবনসহ কয়েকটি ছোট স্থাপনা ভাঙা শুরু করে।

এ সব পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে জোনাথন ফাওলার বলেন, ‘এটি ইউএনআরডব্লিউএ ও জাতিসংঘের স্থাপনার ওপর এক নজিরবিহীন হামলা। একই সঙ্গে এটি জাতিসংঘের বিশেষ অধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি সতর্কবার্তা। আজ ইউএনআরডব্লিউএর সঙ্গে যা ঘটছে, আগামীকাল তা বিশ্বের যেকোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গেও ঘটতে পারে।’

Manual2 Ad Code

ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে ইউএনআরডব্লিউএর বিরুদ্ধে হামাসকে আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ করে আসছে। তেল আবিবের দাবি, সংস্থাটির কিছু কর্মী ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলায় জড়িত ছিল—যার মধ্য দিয়ে গাজায় যুদ্ধের সূচনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ইসরাইল।

Manual8 Ad Code

গত বছর ইসরাইলের নির্দেশে ওই কার্যালয় ব্যবহার বন্ধ রাখে ইউএনআরডব্লিউএ। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রশাসন তখন সংস্থাটিকে তাদের সব স্থাপনা খালি করে কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশও দিয়েছিল।ফ্রান্সের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাথরিন কোলোনার নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তসহ একাধিক অনুসন্ধানে ইউএনআরডব্লিউএতে কিছু ‘নিরপেক্ষতা–সংক্রান্ত সমস্যা’ পাওয়া যায়। তবে সংস্থাটির বিরুদ্ধে ইসরাইলের প্রধান অভিযোগের পক্ষে চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইউএনআরডব্লিউএর স্থাপনা ভাঙার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির। তিনি বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক দিন, এটি উৎসবের দিন এবং জেরুজালেমের শাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। বছরের পর বছর এখানে সন্ত্রাসবাদের সমর্থকরা ছিলো। তারা যা কিছু তৈরি করেছিল- সবকিছু সরিয়ে দেয়া হচ্ছে আজ।’

Manual8 Ad Code

সন্ত্রাসবাদের সব সমর্থকের সঙ্গেই এমনটাই হবে বলে সতর্কও করেন তিনি। ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ভাঙচুরের পক্ষে সাফাই গেয়ে জানায়, জেরুজালেমের এই কম্পাউন্ডটি ইসরাইল রাষ্ট্রের মালিকানাধীন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজকের পদক্ষেপ কোনো নতুন নীতি নয় বরং ইউএনআরডব্লিউএ–হামাস সংক্রান্ত বিদ্যমান ইসরাইলি আইনের বাস্তবায়ন।’

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code