২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সিরিয়ার রাক্কা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নিলো সরকারি বাহিনী

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০১:৪২ অপরাহ্ণ
সিরিয়ার রাক্কা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নিলো সরকারি বাহিনী

Manual8 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

সিরিয়ার উত্তর–পূর্বাঞ্চলে কুর্দি নেতৃত্বধীন বাহিনী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে সরকারপন্থি সেনারা আরও ভেতরে ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছে সিরীয় সামরিক সূত্র। আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এসব অভিযানে আরও দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে। সিরীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে রাক্কা প্রদেশ।

Manual8 Ad Code

এর আগে গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সিরীয় সেনাবাহিনী উত্তরাঞ্চলীয় শহর তাবকা ও এর সংলগ্ন ইউফ্রেটিস বাঁধের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়। একই সঙ্গে রাক্কার পশ্চিমে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ফ্রিডম ড্যাম (যা আগে বাথ ড্যাম নামে পরিচিত ছিল) দখলে নেয়। এরপর তারা রাক্কার দিকে এগোতে থাকে। আজ মঙ্গলবার উপজাতীয় যোদ্ধাদের সহায়তায় এলাকাটি সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এলো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। এসব ছবিতে দেখা যায়, রাক্কা প্রদেশ জয়ের পর বিধ্বস্ত আল রশিদ সেতুর কাছে উপজাতীয় বাহিনীর যোদ্ধা ও স্থানীয় শিশুদের সাথে ছবি তোলার জন্য পোজ দিচ্ছেন সিরিয়ার সরকারি সেনারা।

সামরিক সূত্রগুলো জানায়, চলতি সপ্তাহে সিরিয়ার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এসব এলাকা এতদিন কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর দখলে ছিল। একসময় এসডিএফ ছিল সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র। এই অগ্রগতি প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারারার সেই প্রচেষ্টার অংশ, যার লক্ষ্য পুরো দেশকে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে আনা।

Manual2 Ad Code

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি পরিবর্তন সিরিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতরেখায় বড় ধরনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ২০২৪ সালে আহমেদ আল-শারারার নেতৃত্বে ইসলামপন্থি যোদ্ধারা সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর এটিই দেশটির ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।

Manual3 Ad Code

সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ-এর সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি ও পূর্ণ একীভূতকরণ চুক্তির ঘোষণা দেন। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় সরকারি বাহিনী এবং এসডিএফ-এর মধ্যবর্তী সমস্ত ফ্রন্ট ও সংযোগ লাইনে অবিলম্বে এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

তীব্র সামরিক চাপের মুখে এসডিএফ রাকা ও দেইর আয জোর থেকে সরে যেতে সম্মত হয়। রাকা ও দেইর আয জোর দুটি আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ যা তারা বছরের পর বছর ধরে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে এবং সিরিয়ার প্রধান তেলক্ষেত্রটির অবস্থান এখানেই।

তবে যুদ্ধবিরতির একদিন পরই সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আবারও সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী এসডিএফ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। সংঘর্ষের মধ্যে কারাগার থেকে পালায় আইএস বন্দিরা। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনার জন্য এসডিএফকে দায়ী করে এটাকে ‘রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

Manual1 Ad Code

সিরিয়ার সেনাবাহিনী বলেছে, চুক্তি অনুসারে এসডিএফের পরবর্তীতে দামেস্ক কর্তৃপক্ষের কাছে এই কারাগারটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করার কথা ছিল। সেনা নেতৃত্ব এরই মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং এসডিএফ কমান্ডারদের অনুরোধ জানিয়েছে, কারাগারটি যেন সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে এসডিএফ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, এসডিএফ ইচ্ছাকৃতভাবে আইএস বন্দিদের মুক্তি দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করতে পরিস্থিতি নিয়ে ভ্রান্ত বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চুক্তি সত্ত্বেও এসডিএফ গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল কারাগারগুলো হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে এসডিএফ দাবি করেছে যে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত উপজাতীয় যোদ্ধাদের হামলার পর কারাগারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে সেনাবাহিনী, যার ফলে বন্দিরা পালিয়ে যায়। এদিকে বন্দিদের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে সরকারি বাহিনী। এরই মধ্যে ২০০ জনের মধ্যে ১২৩ বন্দিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

আইএস বন্দিদের বিরুদ্ধে আটক অভিযানের পাশাপাশি সরকারি বাহিনী দ্রুত এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত হাসাকাহ শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা লড়াইয়ের পর হওয়া যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code