২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সিরিয়ার রাক্কা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নিলো সরকারি বাহিনী

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০১:৪২ অপরাহ্ণ
সিরিয়ার রাক্কা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নিলো সরকারি বাহিনী

Manual4 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

সিরিয়ার উত্তর–পূর্বাঞ্চলে কুর্দি নেতৃত্বধীন বাহিনী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে সরকারপন্থি সেনারা আরও ভেতরে ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছে সিরীয় সামরিক সূত্র। আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এসব অভিযানে আরও দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে। সিরীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে রাক্কা প্রদেশ।

এর আগে গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সিরীয় সেনাবাহিনী উত্তরাঞ্চলীয় শহর তাবকা ও এর সংলগ্ন ইউফ্রেটিস বাঁধের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়। একই সঙ্গে রাক্কার পশ্চিমে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ফ্রিডম ড্যাম (যা আগে বাথ ড্যাম নামে পরিচিত ছিল) দখলে নেয়। এরপর তারা রাক্কার দিকে এগোতে থাকে। আজ মঙ্গলবার উপজাতীয় যোদ্ধাদের সহায়তায় এলাকাটি সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এলো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। এসব ছবিতে দেখা যায়, রাক্কা প্রদেশ জয়ের পর বিধ্বস্ত আল রশিদ সেতুর কাছে উপজাতীয় বাহিনীর যোদ্ধা ও স্থানীয় শিশুদের সাথে ছবি তোলার জন্য পোজ দিচ্ছেন সিরিয়ার সরকারি সেনারা।

Manual4 Ad Code

সামরিক সূত্রগুলো জানায়, চলতি সপ্তাহে সিরিয়ার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এসব এলাকা এতদিন কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর দখলে ছিল। একসময় এসডিএফ ছিল সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র। এই অগ্রগতি প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারারার সেই প্রচেষ্টার অংশ, যার লক্ষ্য পুরো দেশকে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে আনা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি পরিবর্তন সিরিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতরেখায় বড় ধরনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ২০২৪ সালে আহমেদ আল-শারারার নেতৃত্বে ইসলামপন্থি যোদ্ধারা সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর এটিই দেশটির ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।

Manual5 Ad Code

সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ-এর সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি ও পূর্ণ একীভূতকরণ চুক্তির ঘোষণা দেন। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় সরকারি বাহিনী এবং এসডিএফ-এর মধ্যবর্তী সমস্ত ফ্রন্ট ও সংযোগ লাইনে অবিলম্বে এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

তীব্র সামরিক চাপের মুখে এসডিএফ রাকা ও দেইর আয জোর থেকে সরে যেতে সম্মত হয়। রাকা ও দেইর আয জোর দুটি আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ যা তারা বছরের পর বছর ধরে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে এবং সিরিয়ার প্রধান তেলক্ষেত্রটির অবস্থান এখানেই।

তবে যুদ্ধবিরতির একদিন পরই সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আবারও সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী এসডিএফ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। সংঘর্ষের মধ্যে কারাগার থেকে পালায় আইএস বন্দিরা। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনার জন্য এসডিএফকে দায়ী করে এটাকে ‘রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

সিরিয়ার সেনাবাহিনী বলেছে, চুক্তি অনুসারে এসডিএফের পরবর্তীতে দামেস্ক কর্তৃপক্ষের কাছে এই কারাগারটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করার কথা ছিল। সেনা নেতৃত্ব এরই মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং এসডিএফ কমান্ডারদের অনুরোধ জানিয়েছে, কারাগারটি যেন সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে এসডিএফ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, এসডিএফ ইচ্ছাকৃতভাবে আইএস বন্দিদের মুক্তি দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করতে পরিস্থিতি নিয়ে ভ্রান্ত বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চুক্তি সত্ত্বেও এসডিএফ গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল কারাগারগুলো হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে এসডিএফ দাবি করেছে যে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত উপজাতীয় যোদ্ধাদের হামলার পর কারাগারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে সেনাবাহিনী, যার ফলে বন্দিরা পালিয়ে যায়। এদিকে বন্দিদের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে সরকারি বাহিনী। এরই মধ্যে ২০০ জনের মধ্যে ১২৩ বন্দিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

Manual7 Ad Code

আইএস বন্দিদের বিরুদ্ধে আটক অভিযানের পাশাপাশি সরকারি বাহিনী দ্রুত এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত হাসাকাহ শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা লড়াইয়ের পর হওয়া যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Manual8 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code