২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিচ্ছে ইরান, ‘কঠিন পদক্ষেপের’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিচ্ছে ইরান, ‘কঠিন পদক্ষেপের’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

Manual4 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

Manual5 Ad Code

ইরানে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠিন পদক্ষেপ’ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

Manual6 Ad Code

রোববার (১১ জানুয়ারি) ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ডিসি যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ জানুারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানে বিক্ষোভকারীদের জন্য অনেক উপায়ে সহায়তা আসছে। আমাদের দিক থেকে অর্থনৈতিক সহায়তাও রয়েছে।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছে। তার দাবি, ইরানি কর্তৃপক্ষ বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে। তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো স্পষ্ট নয় বলেও জানান ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘কতজনকে (ইরান) হত্যা করেছে—এ বিষয়ে কেউই আমাদের সঠিক সংখ্যা দিতে পারেনি। তবে মনে হচ্ছে সংখ্যাটি উল্লেখ্যযোগ্য হতে পারে।’ইরানে চূড়ান্ত লক্ষ্য কী জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘শেষ লক্ষ্য হলো জয়। আমি জিততে পছন্দ করি।’

সিবিএস নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তিনি দ্রুত একটি কৌশলগত সাফল্য চান—যেমনটি চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে আনা কিংবা ২০২০ সালে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার ঘটনার মতো।

ট্রাম্প বলেন, ইরানে যা ঘটছে, আমরা চলতে দিতে পারি না। তারা যদি বিক্ষোভ করতে চায়—তা এক জিনিস। কিন্তু যখন তারা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করতে শুরু করে, আর এখন আপনি আমাকে ফাঁসির কথা বলছেন আমরা দেখব, সেটা তাদের জন্য কীভাবে কাজ করে। এটা ভালো কাজ করবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব কঠিন পদক্ষেপ নেবে।’

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ইরানে কাজ করা হেঙ্গাও নামে একটি একটি মানবাধিকার সংস্থার বরাতে সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় আটক এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির সরকার।

বুধবার এফরান সুলতানি নামে সেই যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এরইমধ্যে তার পরিবারকে বুধবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ব্যাপারো জানানো হয়েছে। তবে তার বিচার কবে হয়েছে বা তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।

গত কয়েক দিন ধরেই ট্রাম্প ইরানে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি বলেছেন, ইরানে যেকোনো সময় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।

Manual2 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত মাসের শেষের দিকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ১ হাজার ৮৪৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের জনগণের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘সহায়তা আসছে’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান– আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিন। হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন। তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, বিক্ষোভকারীদের নির্বিচার হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সহায়তা আসছে। এমআইজিএ (মেক ইরান গ্রেট এগেইন)!

Manual7 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code