২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন বছরে কার্যকর হচ্ছে একগুচ্ছ আইন

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৮:৪১ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন বছরে কার্যকর হচ্ছে একগুচ্ছ আইন

Manual6 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

Manual4 Ad Code

২০২৬ সাল দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসকারী নাগরিক ও বিদেশিদের জন্য নিয়ে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি থেকে শুরু করে স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহার, মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, শিশু পরিচর্যা সুবিধা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই আইন এবং বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রায় সব খাতেই কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম।

Manual1 Ad Code

নতুন বছর মানে একটি দেশ সাজানোর নতুন আইন কিংবা নতুন পরিকল্পনা। ২০২৬ শুরু হলেও দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমজীবী মানুষের জন্য মজুরি বৃদ্ধির সুখবর খুব একটা স্বস্তি নিয়ে আসেনি। সরকার এ বছর ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছে ঘণ্টাপ্রতি ১০ হাজার ৩২০ ওন। যা গেল বছরের তুলনায় মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

Manual5 Ad Code

শ্রমিকদের মতে, জীবন যাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে এই বৃদ্ধির ব্যবধান অনেক বেশি। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ২০২৬ সালের জন্য বিদেশি অদক্ষ কর্মী (ই-৯ ভিসা) নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ৮০ হাজার নির্ধারণ করেছে। যা ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৩৮ শতাংশই কম। এই লক্ষ্যমাত্রা কমানোর মূল কারণ হিসেবে দেশটির রাজনীতি, অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারের পরিস্থিতিকে চিহ্নিত করছেন অনেকেই।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে কাঠামো আইন যা একটি যুগান্তকারী আইন বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে এ আইন। এটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নিরাপদ বিকাশ নিশ্চিত করার এবং এর জন্য জনগণের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করার একটি আইনি কাঠামো।

চলতি বছর থেকে দক্ষিণ কোরিয়া স্কুলেগুলোতে চালু হচ্ছে স্মার্টফোন ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ। আগামী মার্চ থেকে স্কুলে ক্লাস চলাকালীন স্মার্টফোনসহ সকল প্রকার ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে সম্পুর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

Manual5 Ad Code

মাদক সেবন করে গাড়ি চালানোর ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সরকার কঠোর শাস্তির বিধান করা হয়েছে। ড্রাগ টেস্টে অস্বীকৃতি জানালে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ মিলিয়ন ওন জরিমানা। মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ সাজা ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করা এবং জরিমানা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ ওন করা হয়েছে।

শিশু পরিচর্যায় বাড়তি সুবিধা শিশু লালন-পালনের চাপ কমাতে সরকার বেশ কিছু নতুন সুবিধা চালু করেছে। মাসিক ১ লাখ ওন ভাতা থাকলেও আগে ছিল ৮ বছরের নিচে তা এখন বাড়িয়ে ৯ বছরের নিচে করা হয়েছে। এছাড়ও, থাকছে মাতৃত্বকালীন ছুটির সর্বোচ্চ ভাতা ২২ লাখ ওন, সঙ্গে ৩ মাস অতিরিক্ত ছুটি।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code