২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ইউক্রেন যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে রাশিয়াই: পুতিন

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ১, ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ণ
ইউক্রেন যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে রাশিয়াই: পুতিন

Manual4 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

Manual1 Ad Code

নতুন বছরে দেশের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে চলমান যুদ্ধ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যুদ্ধরত সেনাদের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন জানাতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে রাশিয়াই।
নতুন বছরের প্রাক্কালে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দেশবাসী ও সেনাবাহিনীর উদ্দেশে ভাষণ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রতিরোধের মধ্যদিয়ে যা সর্বাত্মক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রূপ নেয়। এরপর প্রায় চার বছর ধরে এই সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই মুহূর্তে একটি শান্তি আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

Manual6 Ad Code

এমন পরিস্থিতিতে নতুন বছরের প্রাক্কালে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দেশবাসী ও সেনাবাহিনীর উদ্দেশে ভাষণ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। টেলিভিশনে লাইভ সম্প্রচার করা হয় তার ভাষণ। রাশিয়াকে ‘ফাদারল্যান্ড’ সম্বোধন করে সেনাবাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, শান্তিচুক্তির ওপর আস্থা নেই। পুরো দেশ এখন আপনাদের দিকে তাকিয়ে। আমরা জিতবই।’

Manual4 Ad Code

‘রাশিয়ার জনগণ সবসময় সেনাবাহিনীর সঙ্গেই রয়েছে’ জানিয়ে পুতিন বলেন, ‘আপনাদের আশ্বস্ত করে বলতে চাই, নববর্ষের সন্ধ্যায় দেশের কোটি কোটি মানুষ, আপনাদের সঙ্গেই রয়েছে। সবাই আপনাদের কথাই ভাবছে, আপনাদের জন্য দোয়া করছে। আমরা সবাই আপনাদের সমব্যথী। দেশের সমস্ত সেনা এবং কমান্ডারকে নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা। আপনারা ও আমরা জিতবই, এই বিশ্বাস আমাদের রয়েছে।’

এই ভাষণের ঠিক আগেই পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। জানায়, ইউক্রেন এই হামলা চালিয়েছে। ৪৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বরফে ঘেরা জঙ্গলের মধ্যে ড্রোন ভেঙে পড়ে রয়েছে। রুশ সেনার এক কর্মকর্তা আঞ্চলিক ভাষায় কিছু বর্ণনা করছেন।

Manual3 Ad Code

গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোররাতে ইউক্রেন পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা করে বলে অভিযোগ মস্কোর। রুশ কর্মকর্তারা জানান, মোট ৯১টি দূরপাল্লার ড্রোন ছোড়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের কথায়, ‘সব ড্রোনই আমরা রুখে দিয়েছি।’ ইউক্রেন পুতিনের বাসভবনে হামলা চালানোর রাশিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ বহু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের দাবি, শান্তি প্রক্রিয়া বানচাল করার চেষ্টা করছে রাশিয়া।

ওই হামলার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতভর ইউক্রেনের বন্দরনগরী ওডেসায় ব্যাপক হামলা চালায় রুশ সেনারা। এতে আবাসিক এলাকায় বহুতল ভবনে ক্ষয়ক্ষতি হয়। আগুন ধরে যায় বিভিন্ন জায়গায়। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় বন্দরসংলগ্ন লজিস্টিকস ও জ্বালানি স্থাপনা।

ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, রুশ হামলায় শিশুসহ কয়েকজন বেসামরিক আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের অভিযোগ, এই হামলায় কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের নৌপরিবহনও সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

এছাড়া বিভিন্ন ফ্রন্টে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে সম্মুখ লড়াই চলছে। অভিযান চালিয়ে খারকিভ, জাপোরিঝঝিয়া ও দোনেৎস্কে নতুন বসতি দখলের দাবি করেছে মস্কো। কিয়েভের দাবি রুশ হামলায় চেরনিহিভ, খারকিভ ও সুমি অঞ্চলে হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। জেলেনস্কি বাহিনীর দাবি, তারা একদিনে ডজনের বেশি রুশ হামলা প্রতিহত করেছে।

এদিকে বেলারুশে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম মধ্যম পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে রাশিয়া। এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানায় রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে ঠিক কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র সক্রিয় করা হয়েছে এবং সেগুলো ঠিক কোথায় মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেনি রাশিয়া।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code