২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

গ্রিনল্যান্ড আমাদের লাগবেই’, বিশেষ দূত নিয়োগের পর ট্রাম্প

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫, ০২:৫৯ অপরাহ্ণ
গ্রিনল্যান্ড আমাদের লাগবেই’, বিশেষ দূত নিয়োগের পর ট্রাম্প

Manual7 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

গ্রিনল্যান্ডে একজন বিশেষ দূত নিয়োগ দেয়ার পর ডেনমার্কের সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক বিরোধে জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এর আগেও গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রি।

বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য’ যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন এবং ‘আমাদের এটা পেতেই হবে’।

Manual2 Ad Code

লুইজিয়ানার রিপাবলিকান গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ডের জন্য বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং তিনি এ বিষয়ে ‘লিড দেবেন’ (লিড দ্য চার্জ) বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Manual4 Ad Code

এদিকে ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে বিশেষ দূত নিয়োগকে কেন্দ্র করে কোপেনহেগেন ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে, বিষয়টি ব্যাখ্যা করার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করবে।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ সেখানকার জনগণই নির্ধারণ করবে এবং এর ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে’।

গভর্নর ল্যান্ড্রি এক্স-এ দেয়া একটি পোস্টে বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার জন্য কাজ করা সম্মানের।’
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নিজের পুরনো আগ্রহ নতুন করে জাগিয়ে তুলেছেন ট্রাম্প। তিনি দ্বীপটির কৌশলগত অবস্থান এবং খনিজ সম্পদের কথাও উল্লেখ করেছেন।

গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ পেতে শক্তি প্রয়োগের বিষয়টিও পুরোপুরি নাকচ করেননি মার্কিন প্রেসসিডেন্ট, যা ডেনমার্ককে বিস্মিত করেছে। কারণ ডেনমার্ক ন্যাটোর মিত্র দেশ এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

তবে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমাদের এটা নিয়ে কাজ করতে হবে। খনিজের জন্য নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড আমাদের দরকার।’

তিনি বিশেষভাবে আশপাশের সমুদ্রে চীনা ও রুশ জাহাজের উপস্থিতিকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।

Manual2 Ad Code

বিবিসি বলছে, গ্রিনল্যান্ডে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষের বসবাস। ১৯৭৯ সাল থেকে অঞ্চলটি ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করলেও এর প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনও ডেনমার্কের হাতে। যদিও গ্রিনল্যান্ডের অনেকেই ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চান।

এছাড়া জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়ে সেখানে ব্যাপক বিরোধিতা রয়েছে।

বিশেষ দূত হিসেবে জেফ ল্যান্ড্রির নিয়োগকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করে, ওয়াশিংটনকে ডেনিশ সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছেন ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লকে রাসমুসেন।

Manual8 Ad Code

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডরিক নিলসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতায় তারা আগ্রহী, তবে তা অবশ্যই হতে হবে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code