নতুন মন্ত্রিসভার শপথ কবে, জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব
শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ নতুন মন্ত্রিসভার শপথ নিয়ে সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ।
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ কবে, জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, ‘১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এবং শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রায় ১০০০ অতিথিকে নিমন্ত্রণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।’
মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ ১৭ তারিখ না ১৮ তারিখ? কোন দিন ধরে কাজ করছেন- এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটা তো বলতে পারছি না। বললাম তো, যদি আমাদের নির্দেশ দেয়া হয় বা ইন্ডিকেট করা হয় যে অমুক তারিখে অমুক সময়ে হবে, আমরা সেই মোতাবেক কাজ করবো। সেটা ইভেন কালকে হলেও কালকে কাজ করতে হবে। দুইদিন পরে হলে দুদিন পরের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। জানার পরে সেটা বলতে পারবো, তার আগে কোনো তারিখ না।’
মন্ত্রিসভার সদস্য কতজন হবেন- জানতে চাইলে আব্দুর রশিদ বলেন, ‘সেটা নির্ভর করে যিনি সংসদ নেতা, যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, এটা তার ইচ্ছা। উনি কতজনকে মন্ত্রী হিসেবে এখন দেখতে চান বা পরে দেখতে চান।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের গেজেট নোটিফাইড হয়েছে। জাতীয় সংসদের ২৯৭টি আসনে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের নাম প্রকাশিত হয়েছে। আইন অনুযায়ী তিনদিন সময়ের মধ্যে তাদের শপথ গ্রহণও হয় সংসদ সদস্য হিসেবে। সেটি এই তিনদিন সময় আগামীকাল থেকে শুরু করে ১৫, ১৬ আর ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা ধরতে পারি, কারণ কর্মদিবস আগামীকাল থেকে।’
তিনি বলেন, ‘এই ১৭ তারিখের মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ হবে। এই শপথ গ্রহণের পরে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল তাদের নিজস্ব সংসদ সদস্যদের নেতা নির্বাচন করবেন এবং এই যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হবেন, তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে তখন এই ঘটনাটি জানিয়ে দিবেন যে, তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি তখন তাকে নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের জন্য অফার করবেন বা নিয়োগ দান করবেন।’
এদিকে সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের শপথ আগামী ১৬-১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিনের নেতৃত্বে কমিশন অনুমোদন দেয়ার পর সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সই করা গেজেট প্রকাশ করা হয়। ত্রয়োদশ নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সেই গণভোটের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ও গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। ভোট প্রদানের হার ৬০.২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ আর না ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭। ভোট বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়। গতকাল শুক্রবার ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে ইসি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফলের গেজেট এখন জারি করা হয়নি।
নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। বিএনপির শরিকেরা পেয়েছে ৩টি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ৭টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে।
Sharing is caring!