৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মিয়ানমারে শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে, জয়ের পথে জান্তা সমর্থিত দল

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ণ
মিয়ানমারে শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে, জয়ের পথে জান্তা সমর্থিত দল

Manual2 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে মিয়ানমারে নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয়সহ ৬০টি টাউনশিপে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

ইয়াঙ্গুনের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন এক ব্যক্তি। এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জান্তা সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পথে রয়েছে।

সমালোচকরা বলছেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে দেশটির সামরিক বাহিনী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর যে সামরিক শাসন চলছে, তাকে বৈধতা দিতেই এই ভোটের আয়োজন। ওই অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

অং সান সু চি এখনো কারাগারে বন্দি। তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) সহ একাধিক বিরোধী দল ভেঙে দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মাঠ সামরিক-সমর্থিত ইউএসডিপি’র দিকে ঝুঁকে গেছে। জরিপে দেখা গেছে, ইউএসডিপিই ব্যাপক ব্যাবধানে এগিয়ে রয়েছে।

Manual7 Ad Code

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দুই ধাপের ভোটগণনা শেষে ইউএসডিপি এককভাবে নিম্নকক্ষের ২০৯টি আসনের মধ্যে ১৯৩টি এবং উচ্চকক্ষের ৭৮টি আসনের মধ্যে ৫২টি আসনে জয়লাভ করে আধিপত্য বিস্তার করেছে। এছাড়া আরও ১৭টি দল সংসদে কিছু সংখ্যক আসন পেয়েছে।

Manual7 Ad Code

সশস্ত্র সংঘাতের কারণে তিন ধাপে আয়োজন করা হয়েছে মিয়ানমারের নির্বাচন। গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ৩৩০টির মধ্যে ১০২টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হয়।

ভোটে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ১০২ আসনের মধ্যে ৮৯টিতে জয়ী বলে দাবি করেছে জান্তাপন্থি দল ইউএসডিপি। যা শতকরা হিসেবে প্রায় ৮৭ শতাংশ।

বাকি আসনগুলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকটি দল পেয়েছে। বিশ্লেষক ও গণতন্ত্র নিরীক্ষকরা ইউএসডিপিকে সামরিক বাহিনীর আজ্ঞাবহ দল হিসেবে বিবেচনা করেন। দলটির জ্যেষ্ঠ পদে অসংখ্য সাবেক ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আছেন।

মিয়ানমারের নিম্নকক্ষে ৪৪০টি আসন রয়েছে। তবে সামরিক বাহিনীর খসড়া সংবিধানের অধীনে ১১০টি আসন সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত।

Manual5 Ad Code

এরপর গত ১১ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ইউএসডিপির হিসেব অনুসারে, দুই ধাপের ফলাফল মিলিয়ে দলটি এখন পর্যন্ত নিম্নকক্ষের ১৭৬টি আসন পেয়েছে। অর্থাৎ তৃতীয় ধাপের নির্বাচন হওয়ার আগেই ৩৩০টি আসনের অর্ধেকেরও বেশিতে জয় নিশ্চিত করে ফেলেছে দলটি।

নির্বাচনের পর আগামী মার্চ মাসে সংসদ অধিবেশন বসবে। তখন নিম্ন ও উচ্চকক্ষের সম্মিলিত সংসদ সদস্যরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন এবং জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শীর্ষ জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

Manual3 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code