৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

রফতানি: আশার আলো জাগাচ্ছে আলোচনার বাইরে থাকা বেশ কিছু পণ্য।

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
রফতানি: আশার আলো জাগাচ্ছে আলোচনার বাইরে থাকা বেশ কিছু পণ্য।

Manual4 Ad Code

রফতানি: আশার আলো জাগাচ্ছে আলোচনার বাইরে থাকা বেশ কিছু পণ্য।

শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রফতানিতে ভাটা পড়লেও আশার আলো জাগিয়েছে আলোচনার বাইরে থাকা বেশ কিছু পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। প্রকৌশল, বাইসাইকেল, ওষুধ, জাহাজ, চামড়াজাত এবং কৃষিভিত্তিক নতুন পণ্যের রফতানি প্রবৃদ্ধি বাজার বৈচিত্র্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য নীতিগত সহায়তা আর বাজার সম্প্রসারণ অব্যাহতের তাগিদ দিচ্ছেন তারা। রফতানি: আশার আলো জাগাচ্ছে আলোচনার বাইরে থাকা বেশ কিছু পণ্য।

Manual6 Ad Code

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম।

মোট রফতানি কমলেও আশার আলো আলোচনার বাইরে থাকা বেশ কিছু খাতের পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী রফতানি প্রবণতা। অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক চমক এসেছে প্রকৌশল পণ্য থেকে। খাতটির রফতানি বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ, আয় হয়েছে ৩৬ কোটি ৯ লাখ মার্কিন ডলার। যার মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কপার ওয়্যার ও যন্ত্রাংশ।

একই সঙ্গে বাইসাইকেল রফতানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই খাতে আয় বেড়েছে ৩১ শতাংশ বেশি। রফতানি হয়েছে ৮ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি।
বেড়েছে ওষুধ রফতানিও। এই সময়ে খাতটি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধির দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশের বেশি।ইপিবির তথ্যমতে, জাহাজ রফতানি, চামড়াজাত পণ্য, জুট ইয়ার্ন ও জুট ব্যাগ, ক্র্যাব, চিংড়ি ও জীবন্ত মাছ, এমনকি গুড়া মশলা, ফলমূল ও শাকসবজির মতো খাতেও রফতানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

Manual8 Ad Code

এদিকে চলতি অর্থবছরের ৭ মাসে চীনে রফতানি বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ, যা থেকে আয় হয়েছে ৪৯ কোটি ৩ লাখ ডলার। এছাড়া পোল্যান্ডে রফতানি বেড়েছে ৭ শতাংশের বেশি।
নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রফতানি বৈচিত্র্য বাড়াতে পারলে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক বলেন,
রফতানি আয় কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে যে, বাংলাদেশের রফতানি আয় একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের রফতানি আয় কয়েকটা নির্দিষ্ট বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে এবং রফতানি পণ্যে বৈচিত্র আনতে হবে।

Manual8 Ad Code

ট্রেডিশনাল যেসব পণ্য আমরা রফতানি করি, সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আঞ্চলিকভাকে অনেক পণ্য উৎপাদন বা তৈরি করা হচ্ছে। সেগুলো রফতানির ব্যবস্থা করতে হবে। তৈরি পোশাক খাতে সাময়িক চাপ থাকলেও অপ্রচলিত ও নতুন পণ্যের রফতানিতে গতি এলে দেশের বৈদেশিক আয় কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

Manual5 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code