৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বার্নসের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে ইতালি, আর তাকেই বাদ দিলো দল!

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
বার্নসের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে ইতালি, আর তাকেই বাদ দিলো দল!

Manual4 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ইতালি। তবে দলটির অধিনায়ক জো বার্নসকে বিশ্বকাপের পরিকল্পনা থেকে বাদ দিয়েছে ইউরোপের দলটি। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইতালিয়ান ক্রিকেট ফেডারেশন।
ইতালির বিশ্বকাপ পরিকল্পনা থেকে বাদ পড়লেন জো বার্নস।
মূলত প্রাপ্যতা ও চুক্তি-সংক্রান্ত আলোচনায় চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই ক্রিকেটারকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে রাখেনি ইতালি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৩টি টেস্ট ম্যাচও খেলেছেন বার্নস। এছাড়া বিগব্যাশ লিগেও খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে এই ক্রিকেটারের।

Manual4 Ad Code

চলতি বছরের জুলাইয়ে নেদারল্যান্ডসে বাছাই পর্বে বার্নসের নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ইতালি। ঐতিহাসিক সেই সাফল্যের কয়েক মাস পর তাকে ছাড়াই বিশ্বমঞ্চে খেলতে যাচ্ছে দলটি।
বিবৃতিতে ইতালির টি-টোয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়কের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন অধিনায়ক হিসেবে ওয়েন ম্যাডসেনকে বেছে নিয়েছে ইতালিয়ান ক্রিকেট ফেডারেশন। আয়ারল্যান্ড সফরে ইতালিকে নেতৃত্ব দেবেন এবং সেখান থেকেই বিশ্বকাপের জন্য অধিনায়কের দায়িত্ব সামলাবেন তিনি।

Manual6 Ad Code

ফেডারেশনের মতে, ইতালির দলে তার ভূমিকা শুধু খেলোয়াড় হিসেবে নয়, দীর্ঘমেয়াদি দল গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তারা আরও জানিয়েছে, দলের স্থিতিশীলতা, ঐক্য ও ধারাবাহিকতাকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে স্বল্পমেয়াদি ভাবনার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি দলগত ভারসাম্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইতালিয়ান ক্রিকেট ফেডারেশন।

Manual7 Ad Code

তবে বার্নসের অবদানও ভুলে যায়নি ইতালিয়ান ক্রিকেট ফেডারেশন। মাঠের ভেতরে ও বাইরে তার ভূমিকার প্রশংসা করেছে দেশটির ক্রিকেট ফেডারেশন। বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালে রোম ও উগান্ডায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টসহ বিভিন্ন সময়ে ইতালির হয়ে খেলেছেন তিনি। এছাড়া বাছাই পর্বে তিনিই দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া প্রথমবারের মতো দলকে বিশ্বকাপে তোলার পথে তার নেতৃত্বকে জাতীয় দলের বিকাশে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code