২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ইতালিতেও অভিবাসন বিতর্ক, বদলে যাচ্ছে বাস্তবতা

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১১, ২০২৫, ০৩:১০ অপরাহ্ণ
ইতালিতেও অভিবাসন বিতর্ক, বদলে যাচ্ছে বাস্তবতা

Manual2 Ad Code

স্বপ্না শিমু ,স্টাফ রিপোর্টার

Manual8 Ad Code

ইতালিতে অভিবাসীদের প্রবেশ বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন দেশটির ৬৩ শতাংশ নাগরিক। প্রায় ৫৪ লাখ অভিবাসীর দেশটিতে অপরাধের হারে শীর্ষে রয়েছে রাজধানী রোম।

শুক্রবার প্রকাশিত ইতালির ৫৯তম আদমশুমারিতে এ তথ্য পাওয়া যায়। প্রকাশিত আদমশুমারির তথ্য বলছে, ইউরোপজুড়ে অভিবাসন বিতর্ক তীব্র হওয়ার মধ্যে ইতালি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

সামাজিক চাপ, কর্মসংকট, অপরাধসহ বিভিন্ন কারণে দেশটির বাস্তবতা দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

২০২৫ সালের আদমশুমারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালির স্থানীয় নাগরিকদের তুলনায় অভিবাসীরা কর্মক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে।

২৯ শতাংশ অভিবাসী খণ্ডকালীন চুক্তিতে কাজ করলেও তাদের মধ্যে ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ অদক্ষ চাকরিতে নিযুক্ত। ইতালীয়দের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৮ শতাংশ।

তবে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যোগ্যতা সম্পন্ন বিদেশি স্নাতকদের ৫৫ দশমিক ৪ শতাংশ চাকরিতে নিযুক্ত। দুর্ভাগ্যক্রমে, অভিবাসীদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। যেখানে ইতালীয়দের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা মাত্র ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

সামাজিক শৃঙ্খলা এবং সংস্কৃতি নিয়েও ইতালির বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ৫৯ শতাংশ ইতালীয় মনে করেন, বেশি অভিবাসীর আগমনে সমাজের শৃঙ্খলা নষ্ট হয় এবং ৩৮ শতাংশ মনে করেন জাতীয় পরিচয় হুমকির মুখে পড়ে। তবুও ৩৮ শতাংশ নাগরিক স্থানীয় নির্বাচনে বিদেশিদের ভোট দেয়ার পক্ষে।

Manual4 Ad Code

এদিকে, অপরাধের হারে শীর্ষে রয়েছে রাজধানী রোম। যেখানে ২০২৪ সালে ২ লাখ ৭১ হাজার ৭৭৯টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। মিলানে সংগঠিত হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮৬০টি। পুরো ইতালিতে বিশেষ করে রাজধানী রোমে চুড়ি বা পকেটমারের ঘটনা ঘটছে সবচেয়ে বেশি। ২০২৪ সালে ৩৩ হাজার ৪৬৮টি চুরির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

এ কারণে দেশটির নাগরিকদের অভিযোগ, রাস্তা ঘাটে হাঁটা এখন বিপজ্জনক। গেল বছর দেশটিতে ৫ লাখ ১৮ হাজার ৪৯৭টি দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ২৯১ জন।

Manual6 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code