মোঃ মিজানুর রহমান, রংপুর।
র্যাবের যৌথ অভিযানে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানার অপহরনপূর্বক ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার।
র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনসহ অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, আসামি ভিকটিমকে বিয়ের প্রলোভনে প্রেম ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি করে এক পর্যায়ে আসামি ভিকটিমকে তার নানার বাড়িতে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামি তার অপকর্ম ঢাকতে ভিকটিমকে ফুসলিয়ে আসামির বাড়িতে নিয়ে বিবাহবহির্ভূত সংসার করে দীর্ঘদিন যাবত ধর্ষণ করে।
একপর্যায়ে ভিকটিম গ্রেফতারকৃত আসামির প্রতারণার বিয়টি বুঝতে পেরে গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিয়ের কথা বললে, সে বিভিন্ন বাহানায় কালক্ষেপন করতে থাকে। ভিকটিম তার পিতা-মাতা সহ আত্মীয় স্বজনদের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করেন।
ভিকটিমের আপনজন গ্রেফতারকৃত আসামির বাড়িতে গিয়ে ভিকটিমের সাথে বিয়ের প্রস্তাব প্রদান করলে আসামির পিতা-মাতা বিষয়টি সম্পূর্ণরুপে প্রত্যাখান করে এবং তাদের সাথে খারাপ আচরন করে। এরই প্রেক্ষিতে ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে একটি অপহরণপূর্বক ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। যা দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানার মামলা নং- ১৫, তাং- ১৩/০২/২০২৫ ইং, ধারা- ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধন) ২০০৩ এর ৭/৯(১)।
ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামি চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত-২২/১১/২০২৫ খ্রিস্টাব্দ তারিখ সময় ০৯.৩০ ঘটিকায় র্যাব-১৩, সিপিসি-১, দিনাজপুর এবং র্যাব-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর চৌকস আভিযানিক দল ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালী থানাধীন অষ্টধার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অত্র মামলার প্রধান আসামি মোঃ মহিদুল ইসলাম (২৪), পিতা- চাঁন মিয়া, সাং- ছাইলামপুর (টাংগাইলপাড়া), থানা- নকলা, জেলা- শেরপুর‘কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ভিকটিম ও আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Sharing is caring!