১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ/ প্রথমার্ধে গোল করতে পারেনি বাংলাদেশ, উল্টো গোল খেয়ে বসেছে

admin
প্রকাশিত অক্টোবর ২১, ২০২৪, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ/ প্রথমার্ধে গোল করতে পারেনি বাংলাদেশ, উল্টো গোল খেয়ে বসেছে

Manual4 Ad Code

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমার্ধ শেষে ১–০ গোলে পিছিয়ে বাংলাদেশ -সংগৃহীত ছবি

Manual1 Ad Code

নিউজ ডেস্ক : নেপালের সাংবাদিকেরা গ্যালারিতে উন্মুক্ত প্রেসবক্সে এসেই বাংলাদেশের সাংবাদিকদের শুভকামনা জানাতে লাগলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ সহজেই জিতবে এ নিয়ে তাঁদের কারও মধ্যেই যেন সংশয় ছিল না। বাংলাদেশ দল শুরুও করেছে নেপালি সাংবাদিকদের সঠিক প্রমাণ করতে।

প্রথম ৩০ মিনিট সাবিনা খাতুনেরা প্রায় একতরফা খেলে গেছেন। কিন্তু ৩২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে গোল খেয়ে বসেছে বাংলাদেশ। রক্ষণে আসা বল শিউলি আজিম থামালেও ক্লিয়ার করতে পারেননি। বাংলাদেশ গোলকিপার রুপনা চাকমা অনেকটা এগিয়ে আসেন। এই সুযোগে যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা পাকিস্তানের ফরোয়ার্ড জাহমিনা সামিন মালিকের প্লেসিংয়ে গোল।

 

শারীরিকভাবে বাংলাদেশের মেয়েদের চেয়ে পাকিস্তানের মেয়েরা শক্তিশালী। উচ্চতায় তারা এগিয়ে। কিন্তু ফুটবলীয় দক্ষতায় এগিয়ে বাংলাদেশ। আর সেটাই প্রথমার্ধে দেখা গেছে। কিন্তু আসল কাজটা করতে পারেননি বাংলাদেশের কেউ। গোল করার সুযোগ এলেও হাতছাড়া হয়েছে একের পর পর। ৪২ মিনিটি ঋতুপর্ণার শট লাগে ক্রসবারে।

 

আক্রমণে ঋতুপর্ণার সঙ্গে শামসুন্নাহার জুনিয়রের বোঝাপড়া বেশ ভালোই লাগছিল। সপ্তম মিনিটে ঋতুর বাঁ পায়ের ক্রসে শামসুন্নাহার হেড নিতে পারলে গোল হতে পারত। কিন্তু শামসুন্নাহার মাথায় বল ছোঁয়াতে পারেনি। দশম মিনিটে তহুরার বাড়ানো বলে ঋতু্র ক্রসে হেড করতে ওঠেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। পাকিস্তান গোলকিপার নিশা আশরাফ ও অধিনায়ক মারিয়া খানের সঙ্গে সংঘর্ষে খেলা বন্ধ থাকে কয়েক মিনিট।

 

Manual8 Ad Code

মারিয়া ও শামসুন্নাহার পরে মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে নামেন মাঠে। ১৮ মিনিটে স্বপ্না রানীর শট আটকান পাকিস্তান গোলকিপার। পরের মিনিটেই বক্সের সামান্য বাইরে থেকে শামসুন্নাহার জুনিয়রের নেওয়া শট বার উঁচিয়ে যায়। পরপরই ঋতুর শটে পা লাগাতে ব্যর্থ হন তহুরা খাতুন। সাবিনার ফ্রি-কিক পাকিস্তানের তোলা দেয়ালে লেগে কর্নার হয়েছে।

Manual2 Ad Code

 

২৬ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে পাকিস্তানের আনমল হীরার দূরপাল্লার শট বাংলাদেশের গোলে প্রায় ঢুকেই যাচ্ছিল। রুপনা চাকমা কর্নারের বিনিময়ে আটকান। সে যাত্রায় আটকালেও ৪২ মিনিটে গোল খেয়ে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। গত সাফে যে দলকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ, তাদের কাছেই এবার গোল খেয়ে হারের শঙ্কায় এখন বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে না পারলে বা না জিতলে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ওঠা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। সে ক্ষেত্রে ভারতের বিপক্ষে ২৩ অক্টোবর জয় ছাড়া ভিন্ন পথ থাকবে না।

এ ম্যাচ দিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেক হয়েছে আফঈদা খন্দকার, স্বপ্না রানী, কোহাতি কিসকুর। মাঝমাঠে মারিয়া মান্দাকে ছাড়াই খেলতে নামে বাংলাদেশ।

Manual8 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code