১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সাংবাদিকতায় স্বাধীনতা, সত্য ও দায়বদ্ধতা: অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এখন সময়ের দাবি

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকতায় স্বাধীনতা, সত্য ও দায়বদ্ধতা: অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এখন সময়ের দাবি

Manual4 Ad Code

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী (উখিয়া) কক্সবাজার।।

Manual7 Ad Code

সাংবাদিকতা কোনো করপোরেট স্বার্থের দাসত্ব নয়, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতিয়ারও নয়। সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহসী অঙ্গীকার- যেখানে স্বাধীনতা, নির্ভুলতা ও নৈতিকতা একসূত্রে গাঁথা। অথচ বর্তমান বাস্তবতায় সেই মৌলিক মূল্যবোধ আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। অপ-সাংবাদিকতা নামক এক ভয়ংকর ব্যাধি ধীরে ধীরে গ্রাস করছে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ও মর্যাদা।

ভিত্তিহীন তথ্য, যাচাইহীন সংবাদ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর গুজবকে সংবাদে রূপ দেওয়ার প্রবণতা এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়- এটি একটি সংঘবদ্ধ অপসংস্কৃতিতে রূপ নিয়েছে।

Manual2 Ad Code

এর ফলে সত্য চাপা পড়ে যাচ্ছে, মিথ্যা প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে, আর জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- এই অপসাংবাদিকতার দায় শেষ পর্যন্ত পুরো সাংবাদিক সমাজকেই বহন করতে হচ্ছে।

স্বাধীন সাংবাদিকতা মানে লাগামহীন আচরণ নয়। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ হলো- সত্য বলার সাহস, ক্ষমতার মুখোমুখি দাঁড়ানোর দৃঢ়তা এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা। সংবাদ পরিবেশন কোনো আবেগের জায়গা নয়। এটি তথ্য, যুক্তি ও নৈতিকতার শুদ্ধ সমন্বয়।

যারা এই নীতির বাইরে গিয়ে সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করছে, তারা কেবল পেশাটিকেই কলুষিত করছে না- তারা রাষ্ট্র, সমাজ ও গণতন্ত্রকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই সংকট উত্তরণে বিভক্ত সাংবাদিক সমাজ নয়- ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সংগঠনই হতে পারে একমাত্র শক্ত প্রতিরোধ।

এখন আর নীরব থাকার সুযোগ নেই। অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান, কঠোর ও সংগঠিত অবস্থান নিতে হবে। জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের সব সাংবাদিক সংগঠনকে এক ছাতার নিচে এসে পেশাগত শুদ্ধতা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

Manual1 Ad Code

নৈতিকতা-বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং একটি সর্বজনগ্রাহ্য আচরণবিধি বাস্তবায়ন- এসব এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। একই সঙ্গে গণমাধ্যম মালিকপক্ষের দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই।

যোগ্যতা ও নৈতিকতা বিবেচনা না করে সাংবাদিকতার পরিচয় দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। রাষ্ট্রকেও নিশ্চিত করতে হবে- সংবাদকর্মীদের স্বাধীনতা যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, আবার

অপব্যবহারও যেন প্রশ্রয় না পায়। সবশেষে বলতে হয়- সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সাংবাদিকদের হাতেই। সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ, নৈতিকতায় আপসহীন অবস্থান এবং সাহসী কলমই পারে অপ-সাংবাদিকতার বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে। আজ যদি আমরা না দাঁড়াই, তবে আগামী দিনে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

এখনই সময়- সত্যের পক্ষে, পেশার মর্যাদার পক্ষে, এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পক্ষে এক কাতারে দাঁড়ানোর।

Manual7 Ad Code

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code