২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সীমান্তের কুয়াশায় ভুলে এক ‘পা’ পতাকা বৈঠকে ফেরত গেলেন বিএসএফ সদস্য

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
সীমান্তের কুয়াশায় ভুলে এক ‘পা’ পতাকা বৈঠকে ফেরত গেলেন বিএসএফ সদস্য

Manual2 Ad Code

লোকমান ফারুক, রংপুর

Manual1 Ad Code

ভোরের কুয়াশা তখনও জমে আছে পাটগ্রাম সীমান্তে। আলো–আঁধারির সেই অস্পষ্ট রেখায় কাঁটাতারের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পাহারারত চোখগুলো ঠিক করে বুঝে উঠতে পারছিল না—কে কোথায়। সীমান্ত মানেই যেখানে প্রতিটি পা মাপা, প্রতিটি গজ হিসাবি, সেখানে এক মুহূর্তের বিভ্রান্তিই বদলে দিতে পারে ঘটনাপ্রবাহ।

Manual3 Ad Code

সেই কুয়াশার ভেতর দিয়েই ভোর পাঁচটার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার ১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদস্য বেদ প্রকাশ এগিয়ে আসেন—প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। দহগ্রাম ইউনিয়নের নীরব ভোর ভেঙে যায় ৫১ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যাটালিয়নের টহল দলের সতর্ক উপস্থিতিতে। অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়। মুহূর্তেই একটি সীমান্তঘটনা রূপ নেয় কূটনৈতিক পরীক্ষায়।

বিজিবি সূত্র জানায়, আটক বিএসএফ সদস্যের কাছ থেকে একটি শটগান, দুটি গুলি, একটি ওয়্যারলেস সেট এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। সীমান্তে যেখানে প্রতিটি অস্ত্র কেবল শক্তির প্রতীক নয়, বরং আস্থার ভারসাম্য, সেখানে এই জব্দকরণ ছিল প্রটোকল ও পেশাদারিত্বের অংশ। ঘটনার পরপরই বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের জন্য আহ্বান জানায় বিজিবি—সংঘাত নয়, আলোচনার পথেই হাঁটার বার্তা।

রোববার বিকেলে তিনবিঘা করিডর এলাকায় বসে সেই পতাকা বৈঠক। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অন্তত ১০ জন করে সদস্য নীরব সাক্ষী। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সেলিম আল দীন। ভারতের পক্ষে ছিলেন ১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক বিজয় প্রকাশ সুকলা। কাঁটাতারের দুই পাশের অভিজ্ঞ কণ্ঠগুলো সেখানে কথা বলেছে সংযত ভাষায়, হিসেবি শব্দে।

Manual2 Ad Code

বৈঠক সূত্র জানায়, বিএসএফের পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না—এই আশ্বাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সীমান্তে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে প্রবেশ করলে তাকেও আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।
কাগজে–কলমে এটি একটি সমঝোতা; বাস্তবে এটি সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নৈতিক বোঝাপড়া।

লে. কর্নেল সেলিম আল দীন জানান, আটক বিএসএফ সদস্য বেদ প্রকাশ স্বীকার করেছেন—কুয়াশার কারণে গরু পাচারকারীদের ধাওয়া করতে গিয়ে তিনি ভুলবশত বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করেন। এই বক্তব্যে একদিকে আছে মানবিক ভুলের স্বীকারোক্তি, অন্যদিকে শীত মৌসুমে সীমান্তজুড়ে চোরাচালানের বাস্তবতা। ফলে উভয় বাহিনীই শীতকালে টহল জোরদারের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

Manual1 Ad Code

অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ বিএসএফ সদস্যকে শেষ পর্যন্ত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমেই ফেরত দেওয়া হয়। দৃশ্যত এটি একটি শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—সীমান্ত কি শুধু কাঁটাতার আর মানচিত্রের রেখা, নাকি এটি শীতের কুয়াশায় মানুষের ভুলেরও নাম? একটি ভুল পা যেখানে দুই দেশের সম্পর্কের ভারসাম্য নাড়িয়ে দিতে পারে, সেখানে সতর্কতার দায় কার?
সন্ধ্যার দিকে তিনবিঘার আকাশে কুয়াশা আবার নামতে শুরু করে। সীমান্ত ফের নিঃশব্দ। কিন্তু ভোরের সেই ১০০ গজ পথ মনে করিয়ে দেয়—সীমান্তে কখনোই ছোট ঘটনা বলে কিছু নেই। প্রতিটি ঘটনা একটি পরীক্ষার নাম, আর প্রতিটি সমাধান একটি বার্তা।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code