২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ভেনেজুয়েলা উপকূল থেকে আরও এক তেল ট্যাংকার আটক যুক্তরাষ্ট্রের

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ১০:০৬ অপরাহ্ণ
ভেনেজুয়েলা উপকূল থেকে আরও এক তেল ট্যাংকার আটক যুক্তরাষ্ট্রের

Manual1 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

Manual3 Ad Code

ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে আরও এক তেল ট্যাংকার আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাগামী তেল ট্যাংকার অবরোধের নির্দেশ দেয়ার পাঁচদিনের মাথায় এই তেল ট্যাংকার আটক করা হলো। ভেনেজুয়েলার উপকূলে আরও এক তেল ট্যাংকার আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

Manual7 Ad Code

মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম শনিবার (২০ ডিসেম্বর) তেল ট্যাংকার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এক এক্স পোস্টে তিনি জানান, শনিবার ভোরে মার্কিন কোস্টগার্ড পেন্টাগনের নির্দেশনায় জাহাজটি আটক করেছে।

Manual6 Ad Code

তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে মাদক সন্ত্রাসবাদের অর্থায়নে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ তেলের অবৈধ চলাচল অব্যাহত রাখবে।’ পোস্টটির সাথে প্রায় আট মিনিটের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন নোয়েম, যেখানে সেঞ্চুরিজ নাম লেখা একটি জাহাজের ডেকে অবতরণ করতে দেখা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে চলতি মাসে দ্বিতীয়বারের মতো ভেনেজুয়েলা উপকূল থেকে তেলবাহী জাহাজ আটক করলো যুক্তরাষ্ট্র।

সেঞ্চুরিজ একটি পানামা-পতাকাযুক্ত জাহাজ। তবে গত পাঁচ বছরে এটি গ্রিস এবং লাইবেরিয়ার পতাকার নিচেও চলাচল করেছে। এটি মার্কিন ট্রেজারির অনুমোদিত জাহাজের তালিকায় নেই।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগরে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছে। ভেনেজুয়েলার আশপাশের অঞ্চলে কয়েক হাজার সেনা এবং ডজনখানেক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে একটি বিমানবাহী রণতরীও রয়েছে। সেই সঙ্গে গত সেপ্টেম্বর থেকে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে নৌকায় একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন মানুষ নিহত হয়েছে।

Manual8 Ad Code

ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ‘মাদক সন্ত্রাসী’ বলে দাবি করে বলছে, নৌকাগুলোতে মাদক বহন করা হচ্ছিল। যদিও নিজেদের এই দাবির পক্ষে কোনো প্রকাশ্য দেয়নি বা দিতে পারেনি। এসব হামলার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী কংগ্রেসের তদন্তের মুখে রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর উৎখাতে সর্বোচ্চ চাপ বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। এরই অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভেনেজুয়েলায় আসা–যাওয়া করা সব তেল ট্যাংকার অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। মূলত ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার প্রধান আয়ের উৎসকে নিশানা করে চাপ বৃদ্ধি করতে যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তারই সর্বশেষ সংযোজন এটি।

একই সঙ্গে ট্রাম্প মাদুরো সরকারকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেন। ভেনেজুয়েলা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এক বিবৃতিতে বলেন, ভেনেজুয়েলা ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মীদের দ্বারা সংঘটিত একটি নতুন বেসরকারি তেল পরিবহনকারী জাহাজ চুরি ও ছিনতাইয়ের পাশাপাশি এর ক্রুদের জোরপূর্বক অন্তর্ধানের নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান করছে’। ২০১৯ সালে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে দেশটির তেলের ক্রেতা ও শোধনাগারগুলো তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ব্যবহার করছে।

এসব ট্যাংকার নিজেদের অবস্থান গোপন রাখে। অনেক ক্ষেত্রে ইরান বা রাশিয়ার তেল পরিবহনের কারণে আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজগুলো ব্যবহার করা হয়। ট্যাংকার ট্র্যাকার্স ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার জলসীমায় থাকা বা দেশটির দিকে আসা ৮০টি জাহাজের মধ্যে ৩০টির বেশি জাহাজের ওপরই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আছে।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code