২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে রিক্রুটিং এজেন্ট নির্বাচনের মানদণ্ড কেন অবৈধ নয়, জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে রিক্রুটিং এজেন্ট নির্বাচনের মানদণ্ড কেন অবৈধ নয়, জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল

Manual6 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

Manual1 Ad Code

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের আরোপিত নতুন ১০টি শর্ত কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে এই রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে রিক্রুটিং এজেন্ট নির্বাচনের মানদণ্ড কেন অবৈধ নয়, জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

গত ১৮ নভেম্বর মালয়েশিয়া সরকারের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ওই ১০টি শর্ত ঘোষণা করে। এই শর্তগুলোকে বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক দাবি করে আফিয়া ওভারসিজসহ তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সি হাইকোর্টে রিট করে।
আবেদনকারীদের পক্ষে বৃহস্পতিবার শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। আবেদনকারী সংস্থাগুলোর দাবি, এই শর্তগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা পূরণ করা সাধারণ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য অসম্ভব।

তাদের প্রধান অভিযোগগুলো হলো: নতুন মানদণ্ডগুলো মূলত বড় কয়েকটি সংস্থাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে যা বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ প্রথাকে উৎসাহিত করবে, কঠোর শর্তের কারণে অধিকাংশ বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়বে।

Manual8 Ad Code

এছাড়া আদালতে যেসব শর্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: এজেন্সির কমপক্ষে ৫ বছরের লাইসেন্স ও সন্তোষজনক ট্র্যাক রেকর্ড, গত ৫ বছরে বিদেশে অন্তত ৩ হাজার কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা, একই সময়ের মধ্যে অন্তত তিনটি ভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর রেকর্ড, গন্তব্য দেশগুলো থেকে ‘সুশৃঙ্খল আচরণের’ সার্টিফিকেট ও কমপক্ষে ১০ হাজার বর্গফুটের স্থায়ী অফিস ও নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকা।

Manual7 Ad Code

মালয়েশিয়া সরকারের অবস্থান থেকে গত ২৭ অক্টোবর মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (উইজমা পুত্র) একটি কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে উৎস দেশগুলোকে এই শর্তগুলো পালনের নির্দেশ দেয়।
দেশটির দাবি বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নৈতিক মান বজায় রাখাই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য। তবে এই নীতিমালার বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়কে (কেসুমা)।

Manual4 Ad Code

এর আগে ২০২১ সালের সমঝোতা স্মারকের অধীনে মাত্র ১০৩টি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছিল।
ভুক্তভোগী ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মতে, সিন্ডিকেটের কারণে অনেক কর্মী প্রায় ২৫ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন এবং ঋণের জালে আটকা পড়েছেন। হাইকোর্টের এই রুলের ফলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়া এখন আইনি সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে রইল।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code