২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৯ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বার্সেলোনা কিনতে চান সৌদি যুবরাজ!

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫, ০৮:১৭ অপরাহ্ণ
বার্সেলোনা কিনতে চান সৌদি যুবরাজ!

Manual3 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

Manual2 Ad Code

ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ক্লাবগুলোর একটি বার্সেলোনা। পুরো পৃথিবীতে এই কাতালান ক্লাবটির সমর্থক অগণিত।

এবার গুঞ্জন উঠেছে, এই বার্সেলোনাকে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। কাতালান ক্লাবটি কিনে নিতে নাকি ১০ বিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত তিনি।

Manual6 Ad Code

বর্তমানে বার্সেলোনা বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ক্লাবটির ঋণের পরিমাণ ২.৫ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি। এই ভঙ্গুর আর্থিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সৌদি যুবরাজ বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাচ্ছেন

একে সৌদি আরবের ‘ক্রীড়া কূটনীতি’ বা স্পোর্টস ওয়াশিং কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এর আগেও সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়াক্ষেত্রে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে।

তবে ১০ বিলিয়ন ইউরোর এই প্রস্তাব যতই লোভনীয় হোক না কেন, বার্সেলোনা বিক্রি করা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব। কারণ, বার্সেলোনা কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নয়; এটি সম্পূর্ণ ‘সোসিও’ বা সদস্য মালিকানাধীন ক্লাব।

Manual3 Ad Code

হাজার হাজার সদস্যের ভোটের মাধ্যমে ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঐতিহ্যগতভাবে তারা কোনো বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে ক্লাবের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তুলে দিতে রাজি হবেন না।

ফুটবল ও অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের পক্ষে ক্লাবের পূর্ণ মালিকানা নেয়া সম্ভব না হলেও, তারা বার্সেলোনার বাণিজ্যিক খাতে বিনিয়োগ করতে পারে। সেক্ষেত্রে পিআইএফ অর্থ লগ্নী করতে পারলেও ক্লাবের মূল পরিচালনা পর্ষদ বা মাঠের ফুটবলের নিয়ন্ত্রণে তাদের কোনো হাত থাকবে না।

ফলে সৌদি যুবরাজের বার্সেলোনা কেনার বিষয়টি এখনও বাস্তবের চেয়ে গুজব হিসেবেই বেশি বিবেচিত হচ্ছে। তবে ঋণে জর্জরিত বার্সেলোনা এবং ইউরোপীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ কাঠামো নিয়ে এই খবর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরবের ফুটবল সম্প্রসারণ ইতিমধ্যেই অপ্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছেছে। ফুটবল অঙ্গনে সৌদি যুবরাজ বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন এরই মধ্যে। বার্সেলোনার জন্য প্রস্তাবিত এই অর্থের পরিমাণ তাদের ‘ভিশন ২০৩০’ কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

Manual3 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code