২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৯ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

টি-টোয়েন্টিতে ডাবল সেঞ্চুরি, ডাচ অধিনায়কের এক ইনিংসে ২৩ ছক্কা ও ১৪ চার!

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫, ০৩:৩৫ অপরাহ্ণ
টি-টোয়েন্টিতে ডাবল সেঞ্চুরি, ডাচ অধিনায়কের এক ইনিংসে ২৩ ছক্কা ও ১৪ চার!

Manual8 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

Manual2 Ad Code

টি-টোয়েন্টিতে ডাবল সেঞ্চুরি! নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের অধিনায়ক স্কট অ্যাডওয়ার্ডস দেখিয়েছেন এই কীর্তি। অস্ট্রেলিয়ার একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে মাত্র ৮১ বলে ২২৯ রানের ইনিংস খেলে সাড়া ফেলে দিয়েছেন অ্যাডওয়ার্ডস।
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি না হওয়ায় স্কট অ্যাডওয়ার্ডসের অবিশ্বাস্য ইনিংসটি রেকর্ড বুকে জায়গা পাচ্ছে না।

অস্ট্রেলিয়ার ডিভিশন ওয়ান ক্লেঞ্জো গ্রুপ শিল্ডের চতুর্থ রাউন্ডে ভিক্টোরিয়ার আলটোনা স্পোর্টস ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ঝড় তুলেছিলেন নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক অ্যাডওয়ার্ডস। উইলিয়ামস ল্যান্ডিং এসসির বিপক্ষে ওপেনিংয়ে নেমে ২৩ ছক্কা ও ১৪ চারে খেলেছেন এমন বিধ্বংসী ইনিংস। ডাবল সেঞ্চুরি ছাড়ানো ইনিংসটার স্ট্রাইকরেট ২৮২.৭১!

এদিন ওপেনিংয়ে নেমে এই ডাচ তারকা প্রথম ওভারেই ১১ রান নেন। তবে ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই তিনি আসল ছন্দে ফেরেন, পেস বোলিং অলরাউন্ডার প্রিন্স চৌহানের বলে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে। এরপর টানা দুইটি ছক্কায় তিনি অর্ধশতক পূর্ণ করেন। মাত্র ২৩ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি।

আডওয়ার্ডস শতক থেকে মাত্র এক রান দূরে থাকতে ওপেনিং সঙ্গী, মেলবোর্ন স্টারসের সাবেক খেলোয়াড় ল্যাকলান ব্যাঙ্গসকে হারান। ততক্ষণে তাদের জুটি আলটোনাকে ১১ ওভারে ১৫০ রানে পৌঁছে দিয়েছিল। ব্যাঙ্গস আউট হওয়ার তিন বল পর একটি সিঙ্গেল নিয়ে এডওয়ার্ডস শতক পূর্ণ করেন।

এরপরও এডওয়ার্ডস রান তোলার গতি কমাননি। ম্যাচের ১৭তম ওভারে তার ১৫০ পূর্ণ হয়। ওই ওভার থেকেই তিনি আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন এবং আলটোনাকে বিশাল স্কোরের দিকে নিয়ে যান। ইনিংসের শেষ চার ওভারেই তিনি ১৪বার বল বাউন্ডারিছাড়া করেন, যার মধ্যে ১২টিই ছিল ছক্কা। ১৬ ওভার শেষে আলটোনার স্কোর ছিল ২১২–২, আর ইনিংস শেষে তারা দাঁড়ায় ৩০৪–২ রানে। এডওয়ার্ডস অপরাজিত থাকেন ২২৯ রানে। ৮১ বলে ১৪টি চার ও ২৩ ছক্কায় অবিশ্বাস্য ইনিংসটি খেলেন তিনি।

Manual2 Ad Code

প্রথম গ্রেড ক্রিকেটকে আনুষ্ঠানিক টি-টোয়েন্টির মর্যাদা দেয়া হয় না, ফলে অ্যাডওয়ার্ডসের অবিশ্বাস্য ইনিংসটি কোনো স্বীকৃতি পাচ্ছে না। নইলে এটিই হতো টি-টোয়েন্টির ইতিহাসের সর্বোচ্চ ইনিংস। ক্রিস গেইলের ১৭৫* রানের ইনিংসটি ২০১৩ সাল থেকে পুরুষদের টি–টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ স্কোর হিসেবে রয়েছে। এডওয়ার্ডসের সর্বোচ্চ আনুষ্ঠানিক টি–টোয়েন্টি স্কোর ৯৯, এবং তিনি এখনো পেশাদার ক্রিকেটে কোনো ফরম্যাটেই শতক করতে পারেননি।

Manual8 Ad Code

শেষ পর্যন্ত আলটোনা ১৮৬ রানে ম্যাচটি জিতে নেয়। তারা উইলিয়ামস ল্যান্ডিংকে ১১৮ রানে অলআউট করে দেয়, যা ছিল এডওয়ার্ডসের ব্যক্তিগত স্কোরের অর্ধেকের একটু বেশি। ডিভিশন ওয়ান ক্লেঞ্জো গ্রুপ শিল্ডের পয়েন্ট টেবিলে আলটোনা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, আর ছয় দলের মধ্যে উইলিয়ামস ল্যান্ডিং চতুর্থ।

Manual4 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code