৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

কঠিন সময় পার করে নেইমার জানালেন–‘এবার শেষ মিশন

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১০, ২০২৫, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
কঠিন সময় পার করে নেইমার জানালেন–‘এবার শেষ মিশন

Manual2 Ad Code

স্বপ্না শিমু ,স্টাফ রিপোর্টার

Manual5 Ad Code

গত জানুয়ারিতে নেইমার আল হিলালের সঙ্গে চুক্তির ইতি টেনে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরেন। সৌদি আরবে দুই বছর টানা ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করে ঘরে ফিরে হাফ ছেড়ে বেঁচেছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান

। ভক্ত-সমর্থকও ব্রাজিলের স্বপ্নসারথিকে নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছিল আগামী বিশ্বকাপ সামনে রেখে। কিন্তু সান্তোসে তার ফেরাটা স্বপ্নের মতো হয়নি। ব্রাজিলের ক্লাবটিতেও একের পর এক চোট ভোগাচ্ছে নেইমারকে। সান্তোসের হয়ে কঠিন মৌসুম শেষ করে নেইমারের চোখ এখন বিশ্বকাপে।

২০২৫ সালের শুরুতে সান্তোসে ফেরার পর থেকে নেইমার চারবার চোটে পড়েছেন। এছাড়া শৃঙ্খলা ইস্যু তো ছিলই। চোট আর এসব কারণ মিলিয়ে লিগের ৩৮ ম্যাচের ১৮টিই মিস করতে হয়েছে তাকে।

তবুও নেইমার পরিস্থিতি বদলে দেন—দলকে অবনমন থেকে বাঁচান, সমালোচনাকে করতালিতে রূপান্তর করেন। সান্তোসকে অবনমন থেকে বাঁচানোর পর নেইমার জানিয়েছেন, এসব কঠোর সমালোচনা তাকে কীভাবে মানসিকভাবে কাবু করে দিয়েছিল।

দুই মাসের মতো সময় চোটে বাইরে থাকার পর গত ৯ নভেম্বর ফ্লামেঙ্গোর বিপক্ষে সান্তোসের হয়ে আবারও একাদশে ফিরেছিলেন নেইমার। তবে তিনি প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দিতে পারেননি; পুরো ম্যাচে মাত্র দুটি অন-টার্গেট শট নিতে পেরেছিলেন এবং ম্যাচের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে তাকে বদলি করে নেওয়া হয়।

Manual5 Ad Code

এরপরই ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন, যা তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে এবং তাকে সহায়তা নিতে বাধ্য করে। ক্রুজেইরোর বিপক্ষে মৌসুমের শেষ ম্যাচের পর নেইমার বলেন, ‘আমি স্বীকার করি, গত কয়েক সপ্তাহ খুব কঠিন ছিল। ফ্লামেঙ্গোর ম্যাচের পর আমি প্রচুর সমালোচনার শিকার হই।

Manual8 Ad Code

আমার মনে হয়েছে, সমালোচনাগুলো একটু বেশি দূরেই চলে গিয়েছিল… জীবনে প্রথমবার আমাকে সাহায্য চাইতে হয়েছে। আমার মানসিক অবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। নিজের শক্তি দিয়ে আর উঠতে পারছিলাম না। তখন আমার কোচ, সতীর্থ এবং পরিবার আমাকে ভীষণভাবে সাহায্য করেছে।’

মনস্তাত্ত্বিক লড়াই জয়ের পাশাপাশি নেইমার দলকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বাঁচিয়েছেন। পুরোপুরি সুস্থ না হয়েও সান্তোসের শেষ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলেছেন তিনি। সেই তিন ম্যাচে চার গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে সমালোচকদের চুপ করিয়ে দেন এবং নিজের ক্লাস আবারও প্রমাণ করেন। পুরো মৌসুম জুড়ে লড়াই করে সান্তোস শুধু অবনমন এড়ায়নি, বরং নেইমারের শেষ দিকের দুর্দান্ত ফর্মের কারণে কোপা সুদামেরিকানার টিকিটও নিশ্চিত করেছে।

মৌসুম শেষ হলেও নেইমারের মাথায় এখন অফসিজন পরিকল্পনা। খুব স্পষ্ট দু’টি লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছেন তিনি। জিইটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন, ‘এখন বছরটা শেষ করছি। আমি একটু মাথা পরিষ্কার করতে চাই।

প্রায় দশ দিন ফুটবল ভুলে থাকব… এরপর যে সার্জারিটা দরকার, তা করাব… তার আগে ছুটি দরকার, কারণ অপারেশনের পর আমাকে শতভাগ মনোযোগ দিতে হবে। কয়েক দিন শুধু মানসিকভাবে রিল্যাক্স করব, কারণ বছরটা খুব কঠিন গেছে, মাসটাও খুব কঠিন ছিল। এরপর পুরো মনোযোগ দেব শেষ মিশনে: বিশ্বকাপ।’

Manual2 Ad Code

ইএসপিএনের আগের প্রতিবেদনের মতোই নেইমার নিশ্চিত করেছেন, শারীরিক অবস্থাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে বাঁ হাঁটুর অস্ত্রোপচারই তার অগ্রাধিকার। যদিও তিনি অপারেশনের নির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করেননি, ধারণা করা হচ্ছে তার মেনিসকাস সার্জারি হবে।

এর মাধ্যমে তিনি ফিটনেস ফিরিয়ে এনে ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে জায়গা পেতে কার্লো আনচেলত্তির নজরে আবারও আসতে চান এবং দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেস ধরে রাখার দিকে মনোযোগ দেবেন।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code