২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

এক বছরে ৮৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র, কারণ কী?

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১০, ২০২৫, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
এক বছরে ৮৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র, কারণ কী?

Manual1 Ad Code

স্বপ্না শিমু ,স্টাফ রিপোর্টার

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগে ৮৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।

বেআইনি কর্মকাণ্ড, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া ও সন্ত্রাসবাদের সমর্থন এবং সর্বোপরি মার্কিন জনগণে নিরাপত্তার মান বজায় রাখার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র দফতরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘ভিসা বাতিল করার কয়েকটি প্রধান কারণ ছিল ডিইউআই (মদ পান করে গাড়ি চালানো), হামলা ও চুরি; যা গত বছরের প্রায় অর্ধেক ভিসা বাতিলের জন্য দায়ী। এসব লোক আমাদের সমাজের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি এবং আমরা তাদের দেশে রাখতে চাই না।’

Manual6 Ad Code

এই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘ভিসা যাচাইয়ের পদ্ধতি কঠোর রয়েছে, বিশেষ করে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের আবেদনকারীদের জন্য।’

আফগানিস্তান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এই প্রশাসন সব সময়ই আফগানিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল (মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর)।

ভিসা আবেদনকারীরা যাতে হুমকির কারণ না হয়, তা আমরা যথাযথভাবে যাচাই করছি।’ বাতিল হওয়া ৮৫ হাজার ভিসার মধ্যে ৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীও রয়েছে।

Manual8 Ad Code

ইহুদিবিদ্বেষী আচরণ ও সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগ তুলে তাদের ভিসা বাতিল করা হয়। যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

Manual8 Ad Code

গত অক্টোবর মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষ্যকার চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড নিয়ে ‘উল্লাস’ করার অভিযোগে বেশ কয়েকজন বিদেশি শিক্ষার্থীকে ভিসা বাতিল করা হয়।

ব্যাপকভাবে ভিসা বাতিলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ধরপাকড় ও দেশ ছাড়ার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

বাইডেন প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে যেসব শরণার্থী প্রবেশ করেছিল, তাদের সবার নথিপত্র যাচাই করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। প্রায় স্থবির হয়ে রয়েছে শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচিও।

Manual3 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code