২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্যুতির সামনে সব যেন ম্লান হয়ে যায়

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২২, ২০২৫, ০৮:২৮ অপরাহ্ণ
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্যুতির সামনে সব যেন ম্লান হয়ে যায়

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় ঐক্যের প্রতীক আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘চরম নির্যাতন’ করা হয়েছিল নির্জন কারাগারে। ব্রিটিশদের তৈরি পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি কক্ষে বন্দী রাখা হয়েছিল মানুষের এই ভালোবাসাকে, যেখানে ছিল ইঁদুর ও পোকামাকড়ের উপদ্রব। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বিনা চিকিৎসায় বন্দী থাকার ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এমনকি তাকে ‘স্লো পয়জনিং’ করে হত্যা চেষ্টারও অভিযোগ রয়েছে।

জবরদস্তি করে বের করে দেওয়া হয়েছিল ক্যান্টনমেন্টের স্মৃতি বিজড়িত সেই বাড়ি থেকেও। বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি জনগণের চিরকালের যে অকুণ্ঠ ভালোবাসা রয়েছে তা আবারও ফুটে উঠল গতকাল ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে। আবারও প্রমাণিত হলো এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তিনি। দল-মত-নির্বিশেষে সব মানুষ যাকে শ্রদ্ধা করে, বিবেচনা করেন জাতির কাণ্ডারি হিসেবে।

ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনবারের এই সফল প্রধানমন্ত্রী যোগ দিয়ে পুরো আয়োজনকেই যেন সূর্যের ন্যায় আলোকিত করেন। গোটা অনুষ্ঠানের মধ্যমণিতে পরিণত হয়ে ব্যাপক সম্মানিত হয়েছেন তিনি। খুনি হাসিনার শত জুলুম নিপীড়নেও ইস্পাত কঠিন মনোবল ধরে রাখা বিএনপি চেয়ারপারসনকে এভাবে সম্মানিত করায়, তা ব্যাপক আবেগ-আপ্লুত করেছে দেশবাসীকে। ২১ নভেম্বর সেনাকুঞ্জে পৌঁছালে খালেদা জিয়াকে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী প্রধানেরা অভ্যর্থনা জানান।

Manual3 Ad Code

সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর জন্য যথাযথ সামরিক সম্মান ও প্রটোকল নিশ্চিত করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ঠিক পাশের আসনেই বসানো হয় তাঁকে। সরকারের শীর্ষ ব্যক্তির পাশে তাঁর এই আসন বিন্যাসকে বিশেষ গুরুত্ব ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করছেন নেটিজেনরা।   অনুষ্ঠান শুরুর আগে তিনি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একান্তে কয়েক মিনিট কথা বলেন এবং কুশল বিনিময় করেন।

প্রধান উপদেষ্টা এ সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং সুস্থতা কামনা করেন।দেশের গণমাধ্যমগুলোতেও তাঁর উপস্থিতি ব্যাপক আলোচিত হয়েছে এবং গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারেও নির্যাতিত এই দেশনেত্রীকে বিনীতভাবে সম্মান জানিয়েছেন, কুশল বিনিময় করেছেন।

অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার চিরচেনা সেই হাত নাড়ানোর ভঙ্গি ও চিরাচরিত স্বভাবের সেই শুভেচ্ছা জানানো মানুষকে আবেগ-আপ্লুত করেছে। যদিও পানি জমে থাকার কারণে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর হাত ওঠাতে কষ্ট হয় বলে জানা যায়। বিষয়টি শেয়ার করে অনেকেই লিখেছেন, দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী আপসহীন নেত্রী, একজন ত্যাগী মা, একজন শহীদের মা- এমনটা না করলেও পারতেন। কিন্তু তিনি মানুষকে ভালোবেসে, জনগণকে খুশি করতেই কষ্ট শিকার করেছেন। যা তার প্রতি ভালোবাসা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে, অনুষ্ঠান থেকে বের হয়ে আসার সময় সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ জেনারেলদের খালেদা জিয়াকে সম্মান জানানোর দৃশ্যও নজর কেড়েছে মানুষের। এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। সবাই এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

Manual7 Ad Code

নেটাগরিকরা বলছেন, যে যাই বলুক না কেন ২৪’ এর অভ্যুত্থানের পেছনে মূল অনুপ্রেরণা ছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন চরিত্র। শত ত্যাগ শিকার করে দেশকে তিনি সবসময় উপরে রেখেছেন তাই আজকে তিনি সবার উপরে। তাঁর পরিবারকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল প্রতিহিংসাপরায়ণ হাসিনা। তার অত্যাচারে বিনা চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ছিলেন কারাবন্দী। ছেলের লাশ ধরে করুন আর্তনাদ করার সেই দৃশ্য এখনও মানুষকে তাড়া দেয়। তাই এই সম্মান আসলে বাংলাদেশের প্রতি, গণতন্ত্রের প্রতি, সৎ মানুষের প্রতি, একজন মায়ের প্রতি এবং একজন জাতীয় নেত্রীর প্রতি।

গতকালকে ক্ষতের মধ্যে কিছুটা যেন মলম লাগানো হলো মাত্র। যেভাবে তাকে সম্মান দেখানো হয়েছে আর কেউ এই পর্যায়ে পৌঁছতে পারবে না। বেগম জিয়ার দল রাষ্ট্রের দায়িত্ব যেন আবার একবার পায় তা এখন সবার কামনা। রাজনৈতিক শ্লেষকরা বলছেন, সশস্ত্র বাহিনী দিবস বাংলাদেশের তিন বাহিনীর একটি জাতীয় উৎসব। এই অনুষ্ঠানে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে সামরিক প্রধানদের প্রটোকল দেওয়া এবং সরকারের শীর্ষ ব্যক্তির পাশে বসার ব্যবস্থা করা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর উচ্চ মর্যাদা ও গুরুত্বকেই তুলে ধরছে। বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা এবং দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসাই তাকে এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

Manual7 Ad Code

অন্যদিকে, কারাবন্দী ও অসুস্থতা কালীন সময়ে মায়ের অবর্তমানে তার সেই ঐতিহাসিক ভূমিকাকে সমানভাবে এগিয়ে নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভয়াবহ আওয়ামী জুলুমের মুখে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও একজন দক্ষ অভিাবকের মতোই দলের সবকিছু আগলে রাখেন তিনি। দমনপীড়নের মধ্যেও দলের নেতৃত্ব ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তারেক রহমানে বলিষ্ঠ ভূমিকা ও দিকনির্দেশনা সবসময়ই প্রশংসিত হয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শক্তকথা নরম করে বলার দারুণ এক শৈলী যেন চালু হয়েছে তারেক রহমানের হাত ধরেই। এভাবেই তিনি কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব গড়ে তুলে মায়ের অবর্তমানে কঠিন সময়ে দলকে করে রাখেন একত্রিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মায়ের অবদানকে প্রকৃতভাবে কাজে লাগাতে পেরেছেন তারেক রহমান। আজকে দলের ব্যাপক জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে তার অপরিসীম ভূমিকা। তাইতো আজ দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ব্যাপক সম্মানের আসনে দেখতে পেলেন জনতা।

ফেসবুকে মোঃ মুশফিকুল কবি লিখেছেন, সবার প্রিয়, অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়া, দীর্ঘদিন তিনি নির্যাতিত হয়েছেন, কারাভোগ করেছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত মানুষটি অবশ্যই বেগম খালেদা জিয়া। তাঁকে দীর্ঘদিন নির্জন কারা প্রকোষ্ঠে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

এমনকি তিনি যখন গুরুতর অসুস্থ, তখনো তাঁকে তিল তিল করে হত্যার নীলনকশা রচনা করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু সব কিছু উপেক্ষা করে বেগম খালেদা জিয়া তাঁর দৃঢ় মনোবল ও আপসহীন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এবং মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় বেঁচে আছেন। তাঁর প্রতি যে সীমাহীন জুলুম-নির্যাতন করা হয়েছে, সে ব্যাপারে একটি কথাও বলেননি বেগম জিয়া। তাই আজকের এই ভালোবাসার একমাত্র প্রাপ্য ছিলেন তিনিই।

রোহান রাজিব লিখেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে আল্লাহ তায়ালা দীর্ঘজীবী করুন। তাঁকে এই সম্মানের আসনে দেখে সত্যিই খুবই ভালো লাগছে। আরও একবার যেন বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং তিনি যেন সর্বোচ্চ সম্মানজনক ভূমিকায় থেকে দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারেন- সেই দোয়া করছি।

মীর আজম লিখেছেন, খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্য ও ভালোবাসার প্রতীক। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পাহাড়সমান জুলুম-নিপীড়নে দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় ভুগলেও একটুও ভেঙে পড়েননি তিনি। তার আপসহীন চরিত্র ও ইস্পাত কঠিন মনোবল নেলসন ম্যান্ডেলাদেরকেও যেন হার মানায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর অবদানকে কেউ ছাড়াতে পারবে বলে মনে হয় না। আমরা আবারও তাকে জাতির কাণ্ডারির ভূমিকায় দেখতে চাই।

Manual8 Ad Code

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code