৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সিঙ্গেল পূর্ণ করার আগেই ভেঙে গেছে নন স্ট্রাইকপ্রান্তের স্টাম্প

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৫, ০২:১৩ অপরাহ্ণ
সিঙ্গেল পূর্ণ করার আগেই ভেঙে গেছে নন স্ট্রাইকপ্রান্তের স্টাম্প

Manual7 Ad Code

চিটাগং কিংসের উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ মিঠুন বলটা বোলার হুসেইন তালাতের হাতে দিলেন। ফরচুন বরিশালের তানভীর আহমেদ সিঙ্গেল পূর্ণ করার আগেই ভেঙে গেছে নন স্ট্রাইকপ্রান্তের স্টাম্প। ততক্ষণে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উদযাপন শুরু করে দিয়েছে বরিশাল। কারণ, তালাতের করা বলটা হয়েছে ওয়াইড।

Manual2 Ad Code

মিরপুর শেরেবাংলায় টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে চিটাগং কিংস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৪ রান করেছে। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচে ফরচুন বরিশাল ৩ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে। ম্যাচ শেষে চিটাগংয়ের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে সৈয়দ খালেদ আহমেদ বলেন, ‘দেখুন, দিনশেষে ম্যাচ হেরে গিয়েছি। কারও দোষ দেব না যে এখানে রান হয়নি। এই রান আমাদের ডিফেন্ড করা উচিত ছিল। স্কোরবোর্ডে যথেষ্ট রান ছিল। আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারিনি।’

Manual8 Ad Code

১৩ ম্যাচে ৬.৩২ ইকোনমিতে ১৫ উইকেট নিয়েছেন চিটাগং কিংসের আলিস আল ইসলাম। কিপটে বোলিংয়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যাটিংয়েরও অবদান রয়েছে। খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে তাঁর ৭ বলে ১৭ রানের ক্যামিও ইনিংস, আরও স্পষ্ট করে বললে শেষ বলে চার মেরে চিটাগংকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে পায়ে চোট নিয়ে শেষ বল মোকাবিলা করেছিলেন ঠিকই। তবে গতকাল ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে খেলা হয়নি আলিসের। ২৮ বছর বয়সী রহস্যময়ী এই স্পিনার না থাকাটা চিটাগংকে ভুগিয়েছে বলে মনে করেন খালেদ। সংবাদ সম্মেলনে খালেদ বলেন, ‘আলিস না খেলতে পারা আমাদের জন্য বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। আলিস খেলতে পারলে হয়তো দৃশ্যপট ভিন্নরকম হত। আমার কাছে মনে হয় পাওয়ার প্লেতে তার অভাব টের পেয়েছি। পাওয়ার প্লেতে কিছু রান হয়ে গেছে। সে থাকলে তেমন নাও হতে পারত। আমি মনে করি না যে রান কম হয়েছে বা বেশি হয়েছে।’

ফাইনালের স্নায়ুচাপ চিটাগং যে ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, সেটা ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। অনেকগুলো সিঙ্গেল পরিণত হয়েছে দুই রানে। এমনকি খালেদের হাত ফস্কে চার হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল হারের ব্যাখ্যায় ৩২ বছর বয়সী এই পেসার বলেন, ‘দেখুন ম্যাচের মধ্যেই ছিলাম আমরা সবসময়। দুলছিল ম্যাচটা। একবার ম্যাচটা তাদের কাছে যাচ্ছিল। আরেকবার আমাদের কাছে আসছিল। শরীফুল এক ওভারে দুইটা উইকেট নেয়। তখন মনে হয়েছিল ম্যাচটা জিতে যাব। আমি যখন বোলিং করি, তখন ওপরে কয়েকটা বল এসেছিল। সেই ক্যাচগুলো ধরলে ম্যাচটা হয়তো আরও আগে আমাদের হাতে চলে আসত। এখানে তাই একটু ভুল হয়েছে।’

Manual5 Ad Code

২০১৩ বিপিএলে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল চিটাগং কিংস। ১২ বছর একই নামে চিটাগং ফাইনাল উঠলেও শিরোপাটা অধরাই থেকে গেল। খালেদের মতে এবারের বিপিএলে শুধু ফাইনালেই নয়, টুর্নামেন্টজুড়ে চিটাগংয়ের ফিল্ডিং বাজে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আমরা ভালো ফিল্ডিং করিনি। অনেক ক্যাচ ফস্কে গেছে। আগের ম্যাচেও অনেক ক্যাচ মিস হয়েছে। ক্রিকেটে এগুলো হয়। এগুলো ধরে লাভ নেই। হেরেই তো গেছি।’

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code