২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মাদুরোকে ‘ক্ষমতা ছাড়ার’ সতর্কবার্তা ট্রাম্পের, ভেনেজুয়েলার পাশে চীন-রাশিয়া

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫, ০৩:০৪ অপরাহ্ণ
মাদুরোকে ‘ক্ষমতা ছাড়ার’ সতর্কবার্তা ট্রাম্পের, ভেনেজুয়েলার পাশে চীন-রাশিয়া

Manual1 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। বলেছেন, মাদুরোর জন্য ‘সরে দাঁড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ’ হবে। তবে ওয়াশিংটনের চাপের ‍মুখে ভেনেজুয়েলাকে সমর্থন দেয়ার কথা জানিয়েছে রাশিয়া ও চীন।

ফ্লোরিডার বাসভবনে স্থানীয় সময় সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও বাড়তে পারে।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি, সম্ভবত তাই… তবে এটা তার (মাদুরো) ওপর নির্ভর করছে যে সে কী করতে চায়। আমি মনে করি, তার জন্য সরে দাঁড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, ‘সে (মাদুরো) যদি শক্ত অবস্থান নেয়, তাহলে সেটা হবে শেষবারের মতো তার শক্ত অবস্থান নেয়া।’

এদিকে, মার্কিন কোস্টগার্ড টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ভেনেজুয়েলার তৃতীয় একটি তেলবাহী জাহাজ ধাওয়া করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটি ভেনেজুয়েলার তথাকথিত ‘ডার্ক ফ্লিট’-এর অংশ, যা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল প্তানিতে ব্যবহৃত হয়।

ট্রাম্প বলেন, ‘জাহাজটি এগোচ্ছে, এবং শেষ পর্যন্ত আমরা এটি ধরব।

তিনি জানান, কোস্টগার্ড ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ও দু’টি জাহাজ জব্দ করেছে এবং সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই রাখা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য,
হয়তো আমরা তেল বিক্রি করব, হয়তো রেখে দেব, কিংবা কৌশলগত মজুতে ব্যবহার করব। জাহাজগুলোও আমরা রেখে দেব।

Manual4 Ad Code

এর জবাবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত ভেনেজুয়েলাকে হুমকি না দিয়ে নিজের দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার দিকে মনোযোগ দেয়া।

Manual7 Ad Code

মাদুরো বলেন, তিনি (ট্রাম্প) যদি নিজের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় সামলাতেন, তাহলে দেশ ও বিশ্বের জন্যই ভালো হতো।

Manual5 Ad Code

এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ভান গিলের সঙ্গে ফোনালাপে ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন।

রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, এসব পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মস্কো বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।যুক্তরাষ্ট্রের সবশেষ পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে চীনও।

Manual1 Ad Code

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’।

তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতির পরিপন্থি এবং অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে চীন।

নিজেদের বৈধ স্বার্থ রক্ষায় ভেনেজুয়েলার অবস্থানকে চীন সমর্থন করে বলেও জানিয়েছেন লিন জিয়ান।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code