২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৯ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ব্রাজিলকে হতাশায় ডুবিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে আর্জেন্টিনা

admin
প্রকাশিত মার্চ ২৬, ২০২৫, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ব্রাজিলকে হতাশায় ডুবিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে আর্জেন্টিনা

Manual4 Ad Code

ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচ। (ছবি সংরক্ষিত)

 

 

স্পোর্টস ডেস্ক :: দল হিসেবে কতটা পরিণত আর্জেন্টিনা।
সুপার ক্লাসিকোতে তার প্রমাণটা বেশ ভালোভাবেই দিয়েছেন স্কালোনি শিষ্যরা। মেসি-মার্তিনেজের মতো তারকা ফুটবলারদের ছাড়াই ব্রাজিলকে রীতিমত ধরাশায়ী করে ছেড়েছে আলবিসেলেস্তারা। ৪-১ গোলের জয় নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের প্রথম দল হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পেল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

Manual8 Ad Code

মাঠে নামার আগেই জাপান, নিউজিজল্যান্ড ও ইরানের পর বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার। বাছাইপর্বের অন্য ম্যাচে উরুগুয়েকে বলিভিয়া হারাতে না পারায় বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলা নিশ্চিত হয়ে যায় তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

২০ বছর পর লিওনেল মেসি ও নেইমারের কোনো একজনকে ছাড়া সুপার ক্লাসিকোতে মুখোমুখি হয় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। দুই দলের দুই সেরা তারকা না থাকলেও এই ম্যাচ নিয়ে আগ্রহের একটুও কমতি ছিল না। এর মধ্যে রাফিনিয়ার আর্জেন্টিনাকে গোল করে হারানোর ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জমজমাট করে তোলে।

Manual7 Ad Code

কথার লড়াই জমিয়ে তুললে মাঠে তার প্রতিফল ঘটাতে পারেনি সেলেসাওরা। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ব্রাজিলকে বড় ধাক্কা দেন হুলিয়ান আলভারেজ। থিয়াগো আলমাদার বাড়ানো বল বক্সে পেয়ে নিচু শটে জালে পাঠান এই আর্জেন্টাইন তারকা।

Manual3 Ad Code

শুরুর সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই দ্বিতীয় গোল হজম করে বসে সফরকারী ব্রাজিল। ১২তম মিনিটে ঠান্ডা মাথায় গোল দিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এনজো ফার্নান্দেজ। বলের যোগান দেন নাহুয়েল মলিনা।

অবশ্য ম্যাচের ৩০ মিনিট পেরুবার আগেই এক গোল শোধ করে ব্রাজিল। স্কোরশিটে নাম তোলেন ম্যাথিয়াস কুনহা। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর ভুলে বল পেয়ে যান কুনহা, সেখান থেকে ঠান্ডা মাথায় ফিনিশিং।

ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে ফের ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। তবে, আলমাদার জোরালো শট অসাধারণ নৈপুণ্যে ঠেকিয়ে দেন ব্রাজিল গোলরক্ষক বেন্তো। সেই আক্ষেপ মেটাতে মাত্র এক মিনিট লাগে আর্জেন্টিনার।

৩৭তম মিনিটে এনজোর দারুণ ক্রস বক্সে পেয়ে চমৎকার ভলিতে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন ম্যাক অ্যালিস্টার। স্কোরলাইন হয়ে যায় ৩-১। ব্রাজিলকে পাহাড়সম চাপে রেখেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

প্রথমার্ধের হতাশা ভুলে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে তিন পরিবর্তন আনে ব্রাজিল কোচ দরিভাল জুনিয়র। রদ্রিগো, মুরিলো ও জোয়েলিংটনের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এন্দ্রিক, ওর্তিজ ও গোমেজ। ৬৩তম মিনিটে এন্দ্রিককে ফাউল করে বসেন ওতামেন্দি, ফ্রি-কিক পায় ব্রাজিল। জোরালো শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রাফিনহা।

উল্টো ৭১তম মিনিটে ব্রাজিলের হতাশা বাড়ান জিওভানি সিমেওনে। নিচু শটে ব্যবধান বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক গোলটি পেয়ে যান নাপোলিতে খেলা এই ফুটবলার। শেষদিকে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেনি ব্রাজিল। ৪-১ গোলের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

Manual4 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code