১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ণ
সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ

Manual6 Ad Code

সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ

লোকমান ফারুক, রংপুরঃ রংপুরের সমবায় মার্কেটের একটি রেস্টুরেন্টের বরাদ্দমূল্য তিন কোটি টাকা। দোকান বরাদ্দ হয়েছে, একজন কাস্টমস্ কর্মকর্তার স্ত্রী মারুফা আক্তার নামে; অর্থ জমা হয়েছে নিয়মমাফিক। ফ্লোর ভাড়ার চুক্তিপত্র আছে। হিসাব আছে। অর্থ জমা দাতা হিসেবে নামে আছেন একজন–মাহবুবুর রহমান। তিনি সম্পর্কে ওই কর্মকর্তার শ্বশুর। কিন্তু প্রশ্নটা নামের নয় প্রশ্নটা–সামর্থ্যের।

সমবায় সমিতির একাধিক নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে,
ওই রেস্টুরেন্টটির পজিশন মূল্য হিসেবে উল্লেখযোগ্য অংকের অর্থ মাহবুবুর রহমানের মাধ্যমে জমা হয়েছে।
লেনদেনটি আনুষ্ঠানিক। কাগজে কোনো ত্রুটি নেই।
সবকিছু ঠিকঠাক–যতক্ষণ না প্রশ্নটি করা হয়:
এই অর্থ কোথা থেকে এলো? মাহবুবুর রহমানের পেশা ও আয়ের উৎস সম্পর্কে স্থানীয়ভাবে যে তথ্য পাওয়া যায়,
তা ওই পরিমাণ বিনিয়োগের সাথে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার পরিচিত আয়ের ধরণ–ছোট পরিসরের ব্যবসা, পারিবারিক সম্পদও সীমিত। স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন–”ওনার অবস্থা আমরা জানি। এত বড় অংকের টাকা একসাথে দেওয়ার মতো কিছু চোখে পড়েনি।” আরেকজন বললেন–”হঠাৎ করে এত টাকা কোথা থেকে এলো–এটাও তো একটা প্রশ্ন।”

এই বরাদ্দমূল্য পরিশোধের জন্য মাহবুবুর রহমানের কোনো ট্যাক্স রিটার্ন, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা বড় আয়ের বৈধ উৎসের নথি উপস্থাপন করা হয়নি। বর্তমানে তিনি প্রয়াত। প্রশ্ন করা হলে–সমবায় ব্যাংকের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। নথি নেই। ব্যাখ্যাও নেই। কিন্তু
ক্রেতা আসছে, অর্ডার হচ্ছে, ব্যবসা চলছে। সংখ্যাটা দাঁড়িয়ে আছে–ডেকোরেশন সহ সাড়ে চার কোটি। একদিকে–সীমিত আয়ের পরিচিত প্রোফাইল। অন্যদিকে–বরাদ্দমূল্য ও ডেকোরেশন সহ সাড়ে চার কোটি টাকার বিনিয়োগ। এই দুইয়ের মাঝখানে যে ফাঁক তৈরি হয়, সেটিই এখন এই অনুসন্ধানের কেন্দ্র। এই ফাঁকটা শুধু সংখ্যার নয়–এটি প্রশ্নের ফাঁক। যেখানে জিজ্ঞাসা একটাই: টাকাটা কার?

Manual5 Ad Code

সমবায় মার্কেটের সেই রেস্টুরেন্টটি এখন চালু। দরজা খোলা। বেচাকেনা থেমে নেই। বাইরের চোখে সবকিছুই স্বাভাবিক–যেন হিসাবের খাতায় কোনো দাগ নেই।
কিন্তু ভেতরে একটি প্রশ্ন জমাট বেঁধে আছে–এই সাড়ে চার কোটি টাকার উৎস কি সত্যিই মাহবুবুর রহমান?
নাকি তিনি কেবল একটি নাম–একটি আড়াল?
টাকাটা কি এসেছে কাস্টমস কর্মকর্তা জামাতার দিক থেকে, আর হাত বদল হয়ে পৌঁছেছে শ্বশুরের মাধ্যমে?
নাকি এই লেনদেনের ভেতরে আরও অদৃশ্য কোনো হাত আছে–যার ছায়া কাগজে পড়ে না, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ থাকে তারই? প্রশ্নগুলো আপাতত নীরব। কিন্তু সংখ্যাগুলো নীরব নয়।

Manual7 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

অনুসন্ধান চলমান

Manual8 Ad Code

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code