ট্যারিফ ও এলসি মার্জিন সুবিধার পরও খেজুরের বাজারে অস্থিরতা কেন?
শেখ স্বপ্না শিমুঃ বড় ধরনের ট্যারিফ ছাড় ও এলসি মার্জিন সুবিধা দেয়ার পরও খেজুরের বাজারে স্বস্তি নেই। গত বছর যে খেজুর কেজি ছিল ১৫০ টাকা, সেটি এবার কিনতে হচ্ছে প্রায় ২৫০ টাকায়। অথচ বছর ব্যবধানে এ পণ্যের আমদানি বেড়েছে প্রায় ২০০ শতাংশ।
ট্যারিফ ও এলসি মার্জিন সুবিধার পরও খেজুরের বাজারে অস্থিরতা কেন?
রমজান মুসলিম বিশ্বের জন্য আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস হলেও দেশের খেজুরের বাজারে তার প্রতিফলন নেই। ক্রেতাদের মতে, বাজারে ন্যায়পরায়ণতা বা সহানুভূতির ছাপ দেখা যাচ্ছে না।
গত অর্থবছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চার মাসে ৩ হাজার ১৮৪ মেট্রিক টন খেজুর আমদানি হয়েছিল। আর চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছে ৯ হাজার ৩০১ মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি প্রায় তিনগুণ। তবুও বাজারে দাম কমেনি।
ক্রেতারা বলছেন, দাম না কমলে তাদের কষ্ট কমবে না। আর বিক্রেতারা জানান, আগে যে খেজুর ১৫০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা কিনতেই ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা লাগছে। ফলে বিক্রির দামও বেড়েছে।
রমজানের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানির এলসি সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় ডাল, চিনি, পেঁয়াজ ও রসুনের আমদানি ১১ থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অন্যদিকে চাহিদার তুলনায় ১ থেকে ৩৬ শতাংশ বেশি আমদানি হয়েছে আদা, ছোলা ও ভোজ্যতেল। এরইমধ্যে বাজারে ১৯২ শতাংশ বেশি খেজুর প্রবেশ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ডাল, চিনি, ছোলা ও তেলসহ রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যে সরবরাহ ঘাটতি নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, পর্যাপ্ত পণ্য আমদানি ও মজুত রয়েছে। যারা আমদানি করেছেন তারা সঠিকভাবে সরবরাহ করলে কোনো পণ্যের ঘাটতি থাকবে না।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের অনুরোধে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে এনবিআর। অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে এবং আগাম করের ৫ শতাংশ পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।
এরপরও যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করা হয়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকার পরিস্থিতি নজরে রাখছে। কেউ সিন্ডিকেট করে বাজার অস্থির করার চেষ্টা করলে শক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত টিম বাজারে তৎপর থাকবে। ক্রেতারা প্রতিযোগিতা কমিশন ও ভোক্তা অধিকারসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
Sharing is caring!