সাভারে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ বোচাগঞ্জে—তদন্তে পুলিশ।
বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় আতিরাণী (২০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে নিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে আতিরাণী ও চানবাবুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আতিরাণী ও তার স্বামী ঢাকায় বসবাস করতেন। তাদের উভয়ের গ্রামের বাড়ি বোচাগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণপুর (চিলাপাড়া) গ্রামে। ঈদের ছুটিতে আতিরাণীর পরিবারের সদস্যরা গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
গত ২৭ মার্চ স্বামী চানবাবু ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানান, আতিরাণী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের মায়ের দাবি, তার মেয়ে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং যৌতুকের দাবিতে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যেই ময়নাতদন্ত ছাড়াই দ্রুত মরদেহ বোচাগঞ্জে নিয়ে আসা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, স্বামী চানবাবু আত্মহত্যার দাবি করলেও কেন স্থানীয় থানা পুলিশকে না জানিয়ে মরদেহ সরাসরি বোচাগঞ্জে আনা হলো—এ বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এছাড়া নিহতের অন্তঃসত্ত্বা থাকার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেছেন।
ঘটনা জানাজানি হলে বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বোচাগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহুবার রহমান জানান, একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। যেহেতু ঘটনাস্থল সাভার, তাই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হবে।
আইনজীবীদের মতে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় মরদেহ স্থানান্তর করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এটি আলামত গোপনের শামিল হতে পারে।
এ ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
Sharing is caring!