২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ফের পরিবর্তন ব্রাকসুর তফসিল, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৪, ২০২৫, ০৫:৫৫ অপরাহ্ণ
ফের পরিবর্তন ব্রাকসুর তফসিল, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

Manual7 Ad Code

লোকমান ফারুক, রংপুর

রাত তখন ঠিক ৯টা। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরিবিলি ক্যাম্পাসে আলো-আঁধারের ভিতর হঠাৎ নড়েচড়ে উঠল ব্রাকসু নির্বাচন নিয়ে জমে থাকা উত্তেজনা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. শাহজামানের স্বাক্ষর করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বিশ্ববিদ্যালয়ভবনের বারান্দা ধরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল। সাথে আরও ছয় কমিশনারের নাম—সবাই এক সিদ্ধান্তে: স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার, তফসিল আবার সংশোধন।

একদিকে শিক্ষার্থীদের গুঞ্জন, অন্যদিকে কমিশনের শান্ত কণ্ঠে ঘোষিত ব্যাখ্যা—দুই মেরুর এই টানাপোড়েন যেন কয়েক সপ্তাহ ধরেই ক্যাম্পাসের বাতাসকে আঁকড়ে রেখেছিল। আর সেই টানটান মুহূর্তেরই সমাপ্তি এদিন রাতে।
নতুন তফসিল অনুযায়ী ৪ ও ৭ ডিসেম্বর প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা নিয়ে আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, ৭ ডিসেম্বর দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ, ৮ ও ৯ ডিসেম্বর বিতরণ ও দাখিল (ডোপ টেস্টের রিপোর্টসহ), ১০ ডিসেম্বর বাছাই ও প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ, ১১ ডিসেম্বর আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি—সবশেষে ২৪ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ। গণনা শেষে ফল ঘোষণা।
এই সময় কমিশনারদের যৌথ বিবৃতিতে উঠে আসে সেই সিদ্ধান্তের কারণ—নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাঝপথে ভোটার তালিকায় “উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি” ধরা পড়েছিল। কমিশনের ভাষ্য, এই ভুল অবস্থায় নির্বাচন হলে প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি ছিল। তাই স্থগিতাদেশ ছিল নীতিগত সিদ্ধান্ত—চাপ বা প্রভাবের নয়।

Manual1 Ad Code

কিন্তু এই ব্যাখ্যার আড়ালে লুকিয়ে ছিল আরেকটি স্তর। দিন কয়েক আগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোড়ন ওঠে, কেউ বললেন তালিকা থেকে নাম বাদ গেছে, কেউ বললেন অযোগ্যদের নাম ঢুকে গেছে। ক্যাম্পাসের করিডরে আলোচনার স্রোত দ্রুত রাজনৈতিক রঙ নিতে থাকে। সেই পরিস্থিতিতে কমিশনের দায়িত্বসীমা কোথায় শেষ হয় আর বিবেক কোথায় শুরু হয়—সেই প্রশ্ন বাতাসে ভাসছিল।
তার মাঝেই কমিশনের স্পষ্ট ঘোষণা: নির্বাচন কমিশন কারও ইচ্ছা বা স্বার্থ দেখে কাজ করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।’

কমিশন বলল, তারা সম্পূর্ণ স্বশাসিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই তাদের দায়িত্ব। ভুল ভোটার তালিকা সংশোধন করা জরুরি ছিল—এটাই তাদের সিদ্ধান্তকে চালিত করেছে।

Manual4 Ad Code

শেষাংশে কমিশনের আহ্বান—গুজব, ভুল তথ্য ও অপপ্রচার এড়িয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে শিক্ষার্থীদের। সংশোধন শেষ হতেই আবার শুরু হয়েছে কার্যক্রম, লক্ষ্য—একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
এর আগে সোমবার ১ ডিসেম্বর মনোনয়ন বিতরণের মাঝেই তফসিল স্থগিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভেতর ক্ষোভ জমেছিল। আজকের ঘোষণা সেই অস্থিরতা সাময়িক প্রশমিত করলেও প্রশ্ন রয়ে যায়— ভুলটি কোথায় হয়েছিল, এবং কার ব্যর্থতার দায় এই স্থগিতাদেশের নিচে চাপা পড়ে রইল?

Manual2 Ad Code

ক্যাম্পাসে রাতের বাতাস তখন অনেক শান্ত। তবুও মনে হচ্ছিল—এ নির্বাচন কেবল প্রক্রিয়ার লড়াই নয়; এটি আস্থার পরীক্ষাও। আর সেই পরীক্ষার ফলই ঠিক করবে—ব্রাকসুর এই নতুন যাত্রা কতটা দৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড়াতে পারে।

Manual6 Ad Code

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code