২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হামলা মনিটরিং করেছে হাসনাত আব্দুল্লাহ: ছাত্রদল

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৫, ০৬:৩৫ অপরাহ্ণ
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হামলা মনিটরিং করেছে হাসনাত আব্দুল্লাহ: ছাত্রদল

Manual3 Ad Code

ঢাবি সংবাদদাতা, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সংঘর্ষের ঘটনা কেন্দ্র থেকে মনিটরিং করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। আর নেতৃত্ব দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধীর কুয়েট শাখার আহবায়ক ওমর ফারুক।

আজ বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের ক্রীড়া কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এমন অভিযোগ তোলেন।

Manual7 Ad Code

নাছির উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে যত বড় বড় অগ্নিকাণ্ড হয়েছে, তাঁর উৎস ছিল ছোট ছোট শর্ট সার্কিট। গতকাল সেই কাজ শুরু করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশৃঙ্খল মব। নেতৃত্ব দিয়েছে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় আহ্বায়ক ওমর ফারুক। কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করেছে সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।’

Manual3 Ad Code

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহ বিভিন্ন সভা-সেমিনারে মানুষকে জ্ঞান দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন ওয়াজ-নসিহত করেন। কিন্তু আমরা প্রশ্ন করতে চাই, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর যে মিটিং হয়েছে, সেখানে কোন প্রটোকলে তিনি এবং নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী গিয়েছেন।’

নাছির বলেন, বাংলাদেশের যেকোনো সংগঠনের রাজনীতি করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কীভাবে ছাত্রদলের তিনজন নেতার ওপর হামলা করে— সে প্রশ্ন আমরা রাখতে চাই। শিবিরের কাছে আমরা প্রশ্ন রাখতে চাই, কুয়েটে তাঁদের কমিটি আছে কী না, গতকাল যে হামলা হয়েছে তাঁর ব্যখ্যা দিতে হবে। আর কোনো ক্যাম্পাসে যদি বিনা কারণে হামলার ঘটনা ঘটে, তাহলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে দায় নিতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘৫ আগস্টের পরাজিত শক্তি এবং ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী সময়ে যারা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের সহযোগী হিসেবে ছিল তাঁরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গোপনে তাঁদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও প্রকাশ্যে গণতান্ত্রিক চর্চায় বাধাগ্রস্ত করছে। মব সংস্কৃতির মাধ্যমে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি করছে। নাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অপচেষ্টায় লিপ্ত থেকে অতীতের সন্ত্রাসী সংগঠনের ন্যায় অগণতান্ত্রিক আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই সকল ঘটনার ধারাবাহিকতায় গতকাল কুয়েটে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি নিয়ে অনলাইনে ও অফলাইনে সত্য ঘটনাকে আড়াল করে অপপ্রচারের মাধ্যমে ছাত্রদলের নামে চারদিকে মিথ্যা ছড়ানো হচ্ছে।’

রাকিব বলেন, ‘এরই মধ্যে ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি আবু আফসান মো. ইয়াহিয়ার নেতৃত্বে একটি সরেজমিন তদন্ত টিম খুলনা গিয়েছেন। তাঁদের প্রতিবেদন ও পুলিশি বা প্রশাসনিক তদন্ত প্রতিবেদন আসার আগ পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই কোনো উপসংহার টানা সম্ভব না।’

Manual5 Ad Code

তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বয়ান, সংবাদমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন, ছবি ও ভিডিও প্রমাণ অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে একটি মিছিল থেকে ছাত্রদল সমর্থকের ওপর অতর্কিত হামলার মধ্য দিয়ে। সেই মিছিল থেকেই ধারণকৃত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যখন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে মিছিলটির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুয়েট কমিটির আহ্বায়ক মো. ওমর ফারুকের উস্কানিতে মিছিলকারীরা তাদের দিকে অতর্কিতভাবে তেড়ে গিয়ে হামলার সূচনা করে।’

ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের বয়ান অনুযায়ী, তাঁদের ধাওয়া দিয়ে ও মারধর করে কুয়েট গেটের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। গেটের কাছে একটি দোকানে তাঁরা আশ্রয় নিলে সেই দোকানদারকেও হেনস্তা করা হয়। যার জবাবে সেই দোকানমালিকের পরিচিত কিছু স্থানীয় লোকজন সশস্ত্র হামলা চালায় সেই মিছিলকারীদের ওপর। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া চলে, কুয়েটের গেট হয়ে উঠে এক রণক্ষেত্র। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে সেই এলাকায় চলে ন্যাক্কারজনক সহিংসতা। সেই সহিংসতায় জড়িত কতিপয় স্থানীয় দলীয় কর্মীকে এরই মধ্যেই বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে তাঁদের কেউই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন এবং ছাত্রদলের ইন্ধনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানোর কোনো কারণও তাঁদের নেই।’

তিনি হামলায় জড়িতদের বিচার দাবি করে বলেন, ‘এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনায় যেই জড়িত থাকুক না কেন, সুষ্ঠু তদন্ত করে তাঁদের সকলকে বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’

Manual5 Ad Code

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code